1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছে জামায়াতের প্রতিনিধি দল মাথা ঝুঁকিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন জাপানের কোচ ইরানে বিপ্লবী গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করে হত্যা বকেয়াসহ জুলাই থেকে নিয়মিত বেতন পাবেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা: শিক্ষামন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব দুর্নীতি তদন্ত করা উচিত: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ‘শিবির কি শেখ মুজিবের স্থলে ওসমান হাদিকে জাতির পিতা হিসেবে দাঁড় করাতে চায়?’ যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি মানলে ইরানও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে: পেজেশকিয়ান ফুলবাড়ীতে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচার, উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ছয় মাসে ৩৩০ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ, আটক ১৪০: বিজিবি

প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে উজাড় হচ্ছে কুয়াকাটার ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’

জাহিদুল ইসলাম মামুন
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা ঝাউবন ও ম্যানগ্রোভ অরণ্যে সাজানো কুয়াকাটার চর গঙ্গামতি সমুদ্রসৈকত, যা একসময় পর্যটকদের কাছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত ছিল। আজ স্থানীয় প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার ঐশ্বর্য। অবাধে গাছ কাটা ও বন উজাড়ের ফলে শ্রীহীন হয়ে পড়ছে সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকা, কমছে জীববৈচিত্র্য, আর হতাশ হয়ে ফিরছেন ভ্রমণপিপাসুরা। দেশের দক্ষিণ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতির চর প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সমুদ্রসৈকত। এই সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এখানকার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। ঝাউ ও বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছপালার ছায়ায় পর্যটকরা খুঁজে পেতেন প্রশান্তি, আর লাল কাঁকড়া ও বন্যপাখির বিচরণে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু বর্তমানে সেই দৃশ্য অনেকটাই অতীত। বন উজাড়ের ফলে সৈকতের বিভিন্ন অংশ এখন অনেকটাই বিরানভূমির মতো।

তীব্র রোদে ছায়াহীন হয়ে পড়েছে পর্যটন এলাকা, ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন দর্শনার্থীরা। নরসিংদী থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক সুবর্ণা ঘোষ বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ডের কথা অনেক শুনেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম গাছ নেই, ছায়া নেই— ছবি তুলতেও ভালো লাগে না। কাটা গাছের গুঁড়ি চোখে পড়ে। রোদে বসা যায় না।’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানান খুলনা থেকে আসা পর্যটক সিয়াম আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আগে এখানে অনেক গাছ ছিল, লাল কাঁকড়াও বেশি দেখা যেত। এখন গাছ কমে যাওয়ায় কাঁকড়ার সংখ্যাও কমে গেছে। আগের সেই সৌন্দর্য আর নেই।’

 

 

স্থানীয় জেলে মামুন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিন-রাত চলছে গাছ কাটা। প্রভাবশালীরা ট্রলার নিয়ে এসে গাছ কেটে নিয়ে যায়। অনেকেই জ্বালানি কাঠ বানিয়ে বিক্রি করে।’

 

 

এ বিষয়ে গঙ্গামতি ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক কালবেলাকে জানান, স্থানীয় কমিউনিটির বাসিন্দারাই বনখেকো দলের হোতা, আর চিহ্নিত করে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। এখনো পর্যন্ত আটটি মামলা করা হয়েছে।

 

 

মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান কালবেলাকে জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। বন রক্ষায় আমরা সোচ্চার রয়েছি। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব বিষয়ে অবহিত করা হয়। আর চিহ্নিত করে বনখেকোদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com