1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৫ কোটি মানুষের গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে: গোলাম পরওয়ার সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি বাজিতপুরে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা পাইকগাছার ২ তরমুজ ব্যবসায়ী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত! সালিশি চুক্তি ভেঙে দ্বন্দ্ব তীব্র—লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ রায়গঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত ​নওগাঁর শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা: এক বিরামহীন পথচলার নাম প্রফেসর মুহম্মদ ওয়ালীউল ইসলাম ​​নওগাঁ শহর এখন যানজটের নগরী: ফুটপাত দখল আর অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ জনজীবন নাজিরপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন, জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি নাজিরপুরে ডাকাত নিহতের ঘটনায় ডাকাত সর্দার গ্রেফতার

তুচ্ছ পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল অটোরিকশা চালকের সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, উৎকণ্ঠায় পরিবার—উত্তপ্ত বাজিতপুর

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৯ বার পড়া হয়েছে

ব্যাপারীপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও চলাচলের অনুপযোগী একটি কাঁচা সড়ক নিজ উদ্যোগে মেরামতের উদ্যোগ নেন তিনি। কোনো সরকারি সহায়তা ছাড়াই নিজের শ্রম ও খরচে রাস্তার গর্ত ভরাট করে মাটি ও বালু ফেলে সেটিকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলেন।

রাস্তা সংস্কারের পর বিপ্লব ওই সড়ক ব্যবহারকারী অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে প্রতিবার যাতায়াতে ৫ থেকে ১০ টাকা করে পারিশ্রমিক চাইছিলেন। প্রথমদিকে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে চললেও পরবর্তীতে একই এলাকার একাধিক চালকের সঙ্গে এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে এক চালকের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়, যা পরে বড় ধরনের বিরোধে রূপ নেয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের দাবি, এ ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং পরিকল্পিতভাবে বিপ্লবকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গত ১৯ এপ্রিল (রোববার) দুপুরে কৈলাগ ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে প্রকাশ্যে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা জানান, ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

স্বজনদের ভাষ্য, মারধরের ঘটনার পর বিকেলের দিকে বিপ্লব আবার অটোরিকশা নিয়ে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যার দিকে ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার একটি গ্যারেজে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যা হত্যার অভিযোগকে আরও জোরালো করছে বলে দাবি স্বজনদের।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, পূর্বশত্রুতা ও সামান্য টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে একা পেয়ে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিপ্লব ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। চার বছর বয়সী এক কন্যা ও কোলে থাকা দুগ্ধপোষ্য পুত্র সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী এখন দিশেহারা। পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারের একমাত্র ভরসা হারিয়ে তারা এখন মানবেতর জীবনযাপনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, সামান্য কয়েক টাকার বিরোধে এ ধরনের নির্মম সহিংসতা সমাজে উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল্লাহ বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ সক্রিয়ভাবে তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে একাধিক টিম কাজ করছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com