নওগাঁ জেলার শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রফেসর মুহম্মদ ওয়ালীউল ইসলাম। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষানুরাগী হিসেবে তিনি কেবল ব্যক্তি হিসেবেই নন, বরং প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে অবসর জীবনে থাকলেও, আজও তিনি নওগাঁর শিল্প-সংস্কৃতির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন নিরন্তর।
শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা:
প্রফেসর মুহম্মদ ওয়ালীউল ইসলাম নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অসামান্য অবদান রেখেছেন। এ ছাড়া নওগাঁ সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ থাকাকালীন তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জেলার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। সম্প্রতি নওগাঁ প্রবাহ জুনিয়র গার্লস স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়। প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ গার্লস স্কুলে রূপান্তরের পেছনে তাঁর নিরলস পরিশ্রম ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
শেকড়ের টানে সাহিত্যের আঙিনায়:
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন সৃজনশীল কলম সৈনিক। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত এই স্বনামধন্য গীতিকারের কলম থেকেই বেরিয়ে এসেছে নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক গান ‘লগা হামার লগা তোমার’। এই একটি গানের মাধ্যমেই তিনি নওগাঁর আঞ্চলিক ভাষাকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করেছেন এবং নিজ জেলার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
সাংবাদিকতা ও সমাজসেবা:
নওগাঁর সাংবাদিকতা জগতের ইতিহাসেও তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তৎকালীন সময়ে দৈনিক বাংলা পত্রিকা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন।
নিরন্তর পথচলা:
কর্মজীবন থেকে অবসরে গেলেও এই কর্মবীর মানুষটি থেমে নেই। আজও তিনি বিভিন্ন সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। নওগাঁর সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে তাঁর উপস্থিতি আজও অনুপ্রেরণা জোগায় তরুণ প্রজন্মকে।
বিচক্ষণ এই ব্যক্তিত্বের কর্মময় জীবন নওগাঁর মানুষের কাছে কেবল গর্বের নয়, বরং পাথেয় হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে।