1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন

সালিশি চুক্তি ভেঙে দ্বন্দ্ব তীব্র—লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

মাহমুদুর রহমান মনজু
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২১৮ বার পড়া হয়েছে
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয়ভাবে সালিশি সিদ্ধান্ত ও লিখিত দলিল সম্পন্ন হওয়ার পরও তা অমান্য করে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মিতু আক্তার তার প্রবাসী স্বামী মুরাদ হোসেনের প্রশ্রয় ও অর্থের প্রভাবে স্থানীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষকে নানাভাবে হেনস্তা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শাহ আলম ও তার পরিবার জানান, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ নিরসনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অ্যাডভোকেট জাফর আহমদসহ একাধিক সালিশদার দফায় দফায় বৈঠক করেন। ‘সালিশ নামা’ অনুযায়ী জমির পরিমাপ নির্ধারণ এবং চলাচলের জন্য ৯ ফুট রাস্তা রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়ে স্বাক্ষর করেন। দলিলে আরও উল্লেখ রয়েছে, উভয় পক্ষ নিজেদের দায়ের করা মামলা নিজ নিজ খরচে প্রত্যাহার করবে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসে অবস্থানরত মুরাদ হোসেনের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে তার স্ত্রী মিতু আক্তার এখন সালিশি সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। সর্বশেষ শাহ আলম তার নিজ জমিতে একটি ওয়াশরুম নির্মাণ শুরু করলে মিতু আক্তার জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশ ডেকে এনে কাজ বন্ধ করে দেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে এবং নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
সালিশ নামার তথ্যমতে, প্রথম পক্ষ (মুরাদ হোসেন গং) এবং দ্বিতীয় পক্ষ (শাহ আলম) আপন চাচা-ভাতিজা। সালিশে প্রথম পক্ষের ৩ শতাংশ জমির মালিকানা নিশ্চিত করা হলেও তারা অতিরিক্ত জমির দাবি তুলে রাস্তা প্রসঙ্গে বাধা দিচ্ছেন এবং এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মিতু আক্তারের একগুঁয়ে আচরণ ও আইনি জটিলতা তৈরির প্রবণতায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শাহ আলম বলেন, “আমরা সালিশি সিদ্ধান্ত মেনে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। কিন্তু প্রবাস থেকে প্রভাব খাটিয়ে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এই হয়রানি থেকে মুক্তি ও দ্রুত সমাধান চাই।”
অন্যদিকে, মিতু আক্তার ও তার স্বজনদের দাবি, তারা জমির ন্যায্য পাওনা দাবি করছেন বলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ না নিলে বিরোধটি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com