সাতক্ষীরার ৩০ মাইল সংলগ্ন লস্কর ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি না পাওয়া, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রভাবশালীদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগে যেখানে প্রতি যানবাহনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার জ্বালানি সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে তা কমিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এতে বাস, ট্রাক ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক চালক অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্টেশনে পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের লাইনের বাইরে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে নির্ধারিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না। এতে অফিসগামী, শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, জ্বালানি নিতে আসা চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানা ধরনের হয়রানি এমনকি শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, স্টেশন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা প্রভাব খাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ২২ এপ্রিল অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আলমগীর ইসলাম (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তেল নিতে এসে অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললে কয়েকজন মিলে তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে, এবং মাথা ফাটিয়ে রক্ত ঝরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে উদ্ধার হয়ে চিকিৎসা নেন।
অভিযোগে বলা হয়, হামলায় জড়িতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সাগর (২৩), পিতা শহিদুল ইসলাম; সাজু (৩৮), পিতা সিদ্দীক; এবং আলামিন ইসলাম (২০), পিতা কামরুল ইসলাম। এদের সবার বাড়ি তিরিশ মাইল সংলগ্ন মঠবাড়ি ও দক্ষিণ নগরঘাটা এলাকায়। এছাড়াও ঘটনায় আরও ৮-৯ জন জড়িত থাকলেও তাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তরা সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের প্রভাবশালী একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং তারা বিভিন্ন সময় ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করে থাকে। কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা বিরোধ দেখা দিলে তারা হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, ঘটনার দিন সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে এবং যারা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেছিলেন, তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ফোন নিয়ে ভিডিও ডিলিট করা হয়। এতে করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ।
এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনায় মানুষ আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।