কিশোরগঞ্জ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে আবারও প্রকৃতির বিরূপ আচরণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অসময়ী ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে হাওরের পাকা ধান ক্ষেত তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। সোনালী স্বপ্নে ভরা যে ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকরা, সেই ধান এখন পানির নিচে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়।
বিশেষ করে বাজিতপুর, নিকলী, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রম, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ, দিনরাত মাঠে শ্রম—সবকিছু যেন এক নিমিষেই শেষ হয়ে যাওয়ার পথে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক স্থানে আধাপাকা ও পাকা ধান কাটার আগেই ডুবে যাচ্ছে। এতে করে হাজারো কৃষক পরিবার আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। কৃষকরা বলছেন, “হাওরের একমাত্র ভরসা বোরো ফসল। এই ধান নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে বাঁচা কঠিন হয়ে যাবে।”
হাওরপাড়ের কৃষকরা জানান, প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই তাদের জীবনযাপন করতে হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে ধান ভালো হওয়ার আশা থাকলেও শেষ মুহূর্তে অসময়ের বৃষ্টি তাদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ ফেলেছে।
এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত বাঁধ সংস্কার, পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি প্রণোদনা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হাওরজুড়ে এখন একটাই আর্তনাদ—“হে আল্লাহ, আমাদের ফসল রক্ষা করুন।” কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম যেন পানিতে ভেসে না যায়, সেই প্রার্থনাই এখন কিশোরগঞ্জের হাওরপাড়ের মানুষের মুখে মুখে।
প্রকৃতির এই দুর্যোগ থেকে কৃষক ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।