পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। জাতীয় ঈদগাহসহ রাজধানীর প্রধান ঈদ জামাতগুলোকে ঘিরে ৪ থেকে ৬ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
বুধবার দুপুরে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের দিন ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে শুধু জাতীয় ঈদগাহেই মোতায়েন থাকবেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। পাশাপাশি ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ায় অনেক এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়ে-এই বাস্তবতায় প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিদেশি কূটনীতিকসহ ভিআইপিরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন। সেখানে প্রবেশের জন্য পাঁচটি গেট থাকবে-চারটি পুরুষ ও একটি নারী মুসল্লিদের জন্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় ৪ থেকে ৬ স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং অস্থায়ী কন্ট্রোলরুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলবে। আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে প্রতিটি প্রবেশপথে।
এ ছাড়া ডগ স্কোয়াড, সোয়াট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি। নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও পৃথক নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের দিন সকাল ৬টা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা কার্যকর থাকবে। মুসল্লিদের গাড়ি নির্ধারিত স্থানে রেখে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফাঁকা হয়ে যাওয়া আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোবাইল, ফুট ও মোটরসাইকেল টহল বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিং মল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি সবাইকে কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে ৯৯৯-এ জানানোর আহ্বান জানান।