1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
  2. bot@local.invalid : Service Bot :
  3. infoobayed@gmail.com : infoobayed :
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

বাড়িতে একা থাকতেন নারী, হত্যার পর লাশ টুকরা করে রাখা হয় ৯ প্যাকেটে

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে এক নারীকে হত্যার পর তাঁর লাশ টুকরা টুকরা করে পলিথিনে মুড়িয়ে ৯টি প্যাকেটে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পেছন থেকে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওই বাড়ির মালিকের নাম ফরিদা ইয়াসমিন (৫০)। এ ঘটনায় লাইলী আক্তার নামের এক ভাড়াটিয়াকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আরও চারজনের নাম বলেছেন। তবে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশ এখনো তদন্ত করে দেখছে। প্রাথমিকভাবে স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিন ছোট আলমপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে ফরিদা ইয়াসমিন বাড়িতে একাই থাকতেন।

সন্ধ্যার দিকে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে তিনি কাছে গিয়ে খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন। বাড়ির একটি টিনের ঘর প্রায় ১৫ দিন আগে লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়, সেখানে স্বামীসহ থাকবেন তিনি। লাইলী দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে হত্যার শিকার ফরিদা ইয়াসমিনের স্বজনদের আহাজারি
কুমিল্লার দেবীদ্বারে হত্যার শিকার ফরিদা ইয়াসমিনের স্বজনদের আহাজারিছবি: প্রথম আলো

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে ফরিদা ইয়াসমিনের ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে আসেন। কিন্তু মাকে দেখতে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে তিনি কাছে গিয়ে খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়ির আশপাশে লোকজন জড়ো হতে থাকেন। স্থানীয় লোকজন লাইলী আক্তারকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।

ইলী হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমন নামে আরও তিন যুবক এ ঘটনায় জড়িত বলে দাবি করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে লাইলী হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমন নামে আরও তিন যুবক এ ঘটনায় জড়িত বলে দাবি করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পায়ের অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com