পাঁচ দিন আগেও এসব বাজারে ৩০০ টাকায় কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমে অর্ধেক দামে ১৬০ টাকায় হচ্ছে। গত পাঁচ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।
মূলত সারা দেশে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করে।
গত সোমবার প্রথম চালানে রাত ৮টার দিকে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি (৯ দশমিক ২ টন), মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি (৪২ দশমিক ২২ টন), বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি (১৪ টন) এবং শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ হাজার কেজি (১৫ টন) কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৮০ টন কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি শুরু হওয়ায় শার্শা উপজেলার সব বাজারে মরিচের দাম অর্ধেক কমে বর্তমানে বাজারে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মরিচ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে ৩০৫ ডলারে প্রতি টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে আমরা বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরও কমে আসবে। তবে কাস্টমসের হয়রানি ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচা বাজারে পাঁচ দিন আগেও প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও আজ রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা আশা করছেন আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কমে একশ’র নিচে নেমে আসবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।