1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় লস্কর ফিলিং স্টেশনে অনিয়ম ও হামলার অভিযোগ, তদন্তের দাবি কলাপাড়া হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকলে মোমবাতি রোগীদের একমাত্র ভরসা বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ নেত্রকোনায় ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক কারবারি আটক ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জেলেদের বড়শিতে ধরা পড়ল কুমির মেলান্দহে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের উপর গাছ পড়ে মা ও ২ মেয়ের মৃত্যু ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় যুবককে গণপিটুনি মসজিদের ইমামের কাছে যুবদলের দুই নেতার লাখ টাকা চাঁদা দাবি আওয়ামী ভূত এখন অন্য একটি দলের কাঁধে চেপেছে: তারেক রহমান সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

মাদারীপুরে সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাকে মারধর করে বের করে দেয়ায় সন্তান কারাগারে ।

মোঃ জামাল হোসেন
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৯৮ বার পড়া হয়েছে
মাদারীপুরের ডাসারে সৈয়দা শান্তি নাহার (৭০) নামে এক বৃদ্ধা মায়ের সম্পত্তি ও ব্যাংকে থাকা অর্থ  হাতিয়ে নিয়ে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তার বড় সন্তান সৈয়দ জানে আলম স্বপন। এই ঘটনায় বৃদ্ধা সৈয়দা শান্তি নাহার ছেলেকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।মায়ের দায়ের করা সেই মামলায় সন্তান এখন কারাগারে শনিবার (১৯ অক্টোবর) সরজমিনে গিয়ে জানাগেছে, ডাসার উপজেলার পূর্ব ডাসার গ্রামের শান্তি  নাহার নামে এক বৃদ্ধা তার বড় ছেলে সৈয়দ জানে আলম স্বপনের কাছে ছিলেন। অসুস্থ মাকে দেখশোনা করার কথা বলে তার কাছে বেশ কিছুদিন রাখেন। এসময় মায়ের নামে থাকা মাদারীপুর শহরের একটি বাড়ীর জমি স্বপন লিখে নিয়েছেন। এছাড়াও তার জমি বিক্রির ব্যাংকে থাকা অর্থ আত্মসাৎ করছেন তার বড় সস্তান সৈয়দ জানে আলম। বৃদ্ধা মায়ের অভিযোগ,সম্পত্তি ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে তিনদিন খাবার না দিয়ে বড় সন্তান ও তার স্ত্রী বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন,একাধিক বার তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।এই ঘটনায় প্রতারণা করে সম্পত্তি ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে মাদারীপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ৫/০৬/২০২৪ তারিখে  মামলা করেন বৃদ্ধা মা তার বড় সন্তান সৈয়দ জানে আলম স্বপন ও তার স্ত্রী কাজী শিবলী আক্তার রুমা এবং তার নাতনী সৈয়দ রাহুল আলম শুভকে আসামী করে ।সেই মামলায় গত ১৭ অক্টোবর মাদারীপুর জীফ জুডিশিয়াল আদালতে সৈয়দ জানে আলম স্বপন হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, সৈয়দা শান্তি নাহার নামে ওই বৃদ্ধার স্বামী বছর তিনেক আগে মারা গিয়েছে। ওয়ারিশ হিসেবে রেখে গেছেন, তিন সন্তান এক মেয়ে। স্বামীর মৃত্যুর পরে চিকিৎসা জনিত কারণে মাদারীপুর শহরে তার বড় ছেলের বাড়ীতে থাকে। নগদ টাকার প্রয়োজনে ৫২লক্ষ টাকার জমি বিক্রি করেন। সেই টাকা বড় সন্তানের কাছে গচ্ছিত রাখেন। কিছুদিন পরে সে অসুস্থবোধ করলে চিকিৎসার কথা বলে তার বড় সন্তান সৈয়দ জানে আলম স্বপন ও তার স্ত্রী কাজী শিবলী আক্তার রুমা এবং তার সস্তান সৈয়দ রাহুল আলম শুভ অজ্ঞাত একটি বিল্ডিং ঘরে নিয়ে যায়। এসময় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে বলে কিছু প্রয়োজনীয় কিছু কাগজ পত্র সই করিয়ে নেয়। এর কিছুদিন পরে জানতে পারেন তার বাড়ীর তিন শতাংশ জমি হেবা দলিলের মাধ্যমে বড় সন্তান জানে আলম তার নামে লিখে নেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানের তার একাধিক সম্পত্তি প্রতারণা করে অন্যদের দলিল করিয়ে দেন। বিষয়টি জানার পরে তার বড় ছেলের কাছে জমি বিক্রির টাকাসহ মোট ৭১ লক্ষ টাকা এবং তিন শতাংশ জমি ফেরত চাইলে টাকা ও জমি ফেরত দিতে অস্বীকার করে। পরে মামলা করার হুমকি দিলে সৈয়দ জানে আলম স্বপন বৃদ্ধা শান্তি নাহারকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি ও লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দেয়।ঘটনার পরে তার মেজ ছেলে সৈয়দ মুক্তি তার মাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করেন।এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পেলে এলাকাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।স্থানীয়রা অভিযুক্ত সন্তানের শাস্তি দাবী করেন ভুক্তভোগী সৈয়দা শান্তি নাহার বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে আমার ছেলে সৈয়দ জানে আলম ও তার স্ত্রী কাজী শিবলী আক্তার রুমা জায়গাজমি অর্থ সম্পদ আত্মাসাৎ করে, আমাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়।ঘটনার পরে আমি আদালতে মামলা করি।সেই মামলায় আমার বড় ছেলে সৈয়দ জানে আলম স্বপন এখন কারাগারে।আমার টাকা পয়সা, জায়গা -জমি ফেরত চাই।আমার ছেলে তা ফিরিয়ে দিলে আর কোন  অভিযোগ থাকবে না।এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সৈয়দ জানে আলম স্বপনের ছেলে সৈয়দ রাহুল আলম শুভকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায় নি।মাদারীপুর জেলার সিনিয়র আইনজীবী এ্যাডভোকেট আব্দুল হাসানাত সোহেল বলেন,মা’কে তার সন্তান সম্পত্তি লিখে নিয়ে ঘর থেকে বের করে দিবে।এটা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।আশাকরি বিজ্ঞ আদালতে ন্যায় বিচারের  মাধ্যমে মা তার নায্য অধিকার ফিরে পাবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com