1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন প্রহ্লাদ যোশী প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা চীনের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার আগামী ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার শূন্য ব্যয় থেকে লাভজনক হবে নেত্রকোণায় নিজ ঘর থেকে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় অবস্থান নিয়ে শঙ্কা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সৈয়দপুরে মেলার আড়ালে ‘মেগা লটারি’: টিকিট বিক্রেতা হাতেনাতে আটক, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি জামালপুরে সনাতন ঐক্য সংগঠনের উদ্যোগে শেষ হলো উল্টো রথযাত্রা

পিরোজপুরের নেছারাবাদে মামলায় ফাঁসিয়ে টাকা দাবি বিএনপি নেতার, বিএনপির করা মামলায় একাধিক বিএনপি’র সমর্থক

দেবাশীষ মন্ডল আশীষ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১২৬ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরের নেছারাবাদে বলদিয়া ইউনিয়নে বিএনপি’র অফিস পোড়ানো অভিযোগে হওয়া মামলায় ওয়ার্ড বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ রয়েছে দিনমজুর ও কলেজছাত্রের নাম। গত ১৮ অক্টোবর উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের উড়িবুনিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মো. মাসুম তালুকদার মোট ৬৩ জনকে আসামি করে নেছারাবাদ থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। তবে, তিনি দাবি করেছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ এ মামলার খসড়া করে তাকে বাদী বানিয়েছেন।
আসামিদের অভিযোগ বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শাহিন আহমেদ ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ও চা দোকানি মাসুম তালুকদারকে ধরে বাদী বানিয়ে এ মামলা সাজিয়েছেন। শুধু তাই নয় এখন মামলার থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিনিময়ে বাদী টাকা চাওয়ার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মামলাটির বেশির ভাগ আসামি বলদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ। এদের অনেকেই বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মী। আসামিদের অভিযোগ ২০১৯ সালে শ্রমিক দলের অফিস পোড়ানোর অভিযোগ এনে একটি মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছে। মূলত অর্থ আদায় ও ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ মামলা সাজানো হয়েছে।উড়িবুনিয়া গ্রামের দিনমজুর মো. এমদাদুল তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি একজন দিনমজুর মানুষ। যে সময় যে কাজ পাই তা করি। আমাকে ওই মামলায় ৬৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এখন মামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। পরিবার খুব অসহায় অবস্থায় আছে।’রানা তালুকদার নামে অপর এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি একজন কলেজছাত্র। অনার্স ফাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করি। মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। এখন মামলা থেকে অব্যাহতি দেবে বলে মামলার বাদী মাসুম তালুকদার টাকা দাবি করছে।’বলদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী মো. বাদশা মিয়া (৬৪) ওই মামলার ২৫ নম্বর আসামি। তিনি বলেন, আমি একজন বয়স্ক মানুষ। আমার কারও সঙ্গে ঝামেলা নেই। ঝামেলা বলতে ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদের সঙ্গে জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ বিরাজমান। সেই অপরাধে আমাকে মামলা আসামি করা হয়েছে।ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া অভিযোগ করেন, ‘আমি কোনো রাজনীতি করি না। আমি একজন জনপ্রতিনিধি। আমাকে মামলার আসামি করা হয়েছে। এখন মামলা থেকে রেহাই দেবে বলে মামলার বাদী মাসুম তালুকদার পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করছে।’এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক আজাহারুল ইসলাম টুটুল জানান, উপজেলায় রাজনৈতিক কোন মামলা হলে অবশ্যই রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আলাপ আলোচনা করেই করা উচিত। এই মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অন্যকে ফাঁসানোর ও ব্যক্তি লাভবানের জন্য করা হয়েছে। তা না হলে বিএনপি সমর্থিত ৭ জনসহ একাধিক নিরপরাধ মানুষকে কেন আসামি করা হবে।মামলার বাদী মাসুম তালুকদার বলেন, ‘আমি উড়িয়াবুনিয়া গ্রামে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এ মামলার বাদী আমি হলেও; সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শাহিন আহমেদ মামলার খসড়া করেছেন। মামলা সাজাতে তিনি আমাকে দুই বারে মোট চার হাজার পাঁচ শ টাকা দিয়েছেন। মামলায় বিএনপি সমর্থক কিছু সাধারণ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তবে, মামলার ভয় দেখিয়ে কারও কাছে কোনো টাকা চাইনি। এটা মিথ্যা কথা।’বলদিয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. শাহিন আহমেদ বলেন, ‘মামলার বাদী মাসুম তালুকদার। আমি মামলার বিষয়ে কিছু জানি না। আমি মামলা করতে কাউকে কোনো টাকা পয়সা দিইনি।’
নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘এই মামলার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। মামলায় অনেক বিএনপি নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক বিষয়। ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ ভালো জানেন।নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বনি আমীন বলেন, মামলার তদন্ত চলমান। যার অপরাধ প্রমাণ পাওয়া যাবে তাকেই গ্রেপ্তার করা হবে। এর ব্যত্যয় হবে না।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com