1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

জনদুর্ভোগের আরেক নাম নেত্রকোনা-কেন্দুয়া রাস্তা : ২৭ কিলোমিটার চলাচলের অযোগ্য

শামীম আহমেদ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৭২ বার পড়া হয়েছে

জেলার অন্যতম প্রধান যোগাযোগের রাস্তা নেত্রকোনা-কেন্দুয়ার সড়ক ও জনপথ বিভাগের ২৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার পথ যেন এলাকাবাসীদের কাছে জনদুর্ভোগের আরেক নাম। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এই রাস্তাটি যান চলাচলের অযোগ্য। রাস্তার ওপর দিয়ে চট্টগ্রাম এবং সিলেটে নিয়মিত ১২/১৪টি বাস চলাচল করে। কিন্তু বন্ধ আছে নেত্রকোনা-কেন্দুয়ায় বাস চলাচল।

ভঙ্গুর রাস্তায় বাস চলাচল বন্ধ থাকায় নিয়মিত চলছে সিএনজি অটোরিকশা। আর হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ, পঙ্গুত্ববরণ করছে চালকসহ অসংখ্য যাত্রী। দেখা গেছে, দরিদ্র পরিবারের লোকজনও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিতে দৌঁড়াচ্ছে ময়মনসিংহ নগরীতে। কারণ সড়ক ও জনপথ নির্মিতব্য ২৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটারের এই রাস্তায় জেলা সদর থেকে কেন্দুয়ায় পৌঁছাতে স্বাভাবিকভাবে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। অন্যদিকে কেন্দুয়া উপজেলা সদর এবং কেন্দুয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার রামপুর থেকে ময়মনসিংহ নগরীর দূরত্ব যথাক্রমে ৪৫ এবং ৩৫ কিলোমিটার। যেখানে বাস অথবা সিএনজিযোগে যেতে সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা। বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, আদালতে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক কাজ ছাড়া কোনো মানুষই নেত্রকোনা আসতে চায় না। কেন্দুয়ার স্থানীয়দের টুকটাক বাজার করতেও ছুটতে হয় ময়মনসিংহ নগরী এবং পার্শ্ববর্তী জেলা শহর কিশোরগঞ্জে। এতে জেলা সদরের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে প্রাচীন ময়মনসিংহের কেন্দুয়া উপজেলাবাসীর। রাস্তার দুর্ভোগের বিষয়ে কথা হলে রামপুর বাজারের ব্যবসায়ী মাসুম খান বলেন, নিজের জেলা শহরে বাসা থাকার পরও এই রাস্তার বেহাল দশার জন্য বেশির ভাগ সময় কষ্ট সহ্য করেও বাড়িতে থাকি।

ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম আক্ষেপের সুরে বলেন, কী বলব, এই একটা রাস্তার জন্য আমরা ৫০ বছর পেছনে পড়ে গেছি। সামনে ঈদ, এলাকার যুব সমাজ ছুটিতে এসে এই রাস্তা ধরে কোথাও বেড়াতে যাবে, বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাবে তাও সম্ভব নয়। কারণ নির্মিতব্য এই রাস্তায় রৌদ্রে ওড়ে লাল ধুলো আর বৃষ্টিতে ছিটায় কাঁদাপানি। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কোনো পণ্য পরিবহনে পার্শ¦বর্তী এলাকাগুলোর চেয়ে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া লাগে। কেন্দুয়া উপজেলারআশুজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কেন্দুয়া নেত্রকোনার এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার দৃশ্যমান উন্নয়ন। এলাকাবাসীর পক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অনেক সময় চলে গেছে এই রাস্তার উন্নয়নে। এখন যেন আর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত রাস্তার কাজটি সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগের পরিসমাপ্তি ঘটায়।

নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়কের ‘প্রশস্তকরণসহ নতুন নির্মিত রাস্তা নির্মাণ কাজ’ প্রকল্পের ধীরগতিতে বেড়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। প্রকল্পটিতে মোট বরাদ্দকৃত অর্থ হচ্ছে, গণপূর্ত খাতে ১৪৫ কোটি আর ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ২০৮ কোটি, সর্বমোট ৩৫৩ কোটি টাকা। মোট ৩৫৩ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে ২০১৯ সালে ২৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়কটির উন্নয়ন কাজের প্রকল্পের কাজ শুরু করে নেত্রকোনা সড়ক বিভাগ। তিনটি প্যাকেজে এমএম বিল্ডার্স, তানভীর কন্সাট্রাকশন, মইন উদ্দিন বাঁশি, ভাওয়েল কন্সট্রাকশন নামের ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি ও ২৬ এপ্রিল দুই দফায় কার্যাদেশ দেয় বিভাগটি। ৭০ ফুট প্রশস্থের পুরো সড়কজুড়ে ২৬ ফুট করে থাকছে বিটুমিন। এছাড়াও ২৬টি কালভার্ট এবং একটি সেতু রয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয় নিয়ে কথা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান জানান, প্রকল্পের কাজটি নির্ধারিত সময়ে শুরু না হওয়ায় এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে দুই বার সময় বাড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট কাজের ৫৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি আগামী ডিসেম্বর নাগাদ রাস্তার কাজ সম্পন্ন হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com