1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি। বাগাতিপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষকের ওপরে সশস্ত্র হামলা পিরোজপুরে অসহায় পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ‘স্টপ দ্য স্টিগমা ২.০’ কর্মসূচি: দৌলতখানে মাসিক স্বাস্থ্য ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সাথে সাজেদা ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি কর্মশালা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতায় মরতে বসেছে বলেশ্বর নদী, পানির সংকটে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বন্ধের আশঙ্কা বাঁশখালী শীলকূপ ইউনিয়নে জামায়াতের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত! লাইলাতুল কদর,মানব জাতির জন্য এক মহামূল্যবান রাত কুষ্টিয়ায় শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, জরিমানা ৯ হাজার হাতীবান্ধা বিএনপি নেতা ও তাদের স্ত্রীর সাথে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণের নির্দেশনা ইউএনও’র ! ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত ১৫ পরিবারের মাঝে ইফতার ও সেহরি বিতরণ

রামদা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর নির্দেশ আওয়ামী লীগ নেতার

শামীম আহমেদ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে

দলীয় নেতা-কর্মীদের মোটরসাইকেল ও রামদা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজিদুল ইসলাম ওরফে সঞ্জু। গন্ডা বাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

সাজিদুল ইসলাম গন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের সমর্থক বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে, রামদা-মোটরসাইকেল নিয়ে নেতা-কর্মীদের বের হওয়ার নির্দেশ-সংক্রান্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে একটি ছুরি দেখিয়ে কীভাবে মোটরসাইকেল ও অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে হবে, তা দেখান ওই আওয়ামী লীগ নেতা। এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা গেছে, গন্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বক্তৃতা করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজিদুল ইসলাম।

এ সময় নিজের কোমর থেকে ছোট একটি ছুরি বের করে তিনি বক্তৃতা শুরু করেন। ভিডিওতে সাজিদুল বলেন, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে আইবেন। উদাহরণ হিসেবে কোমরের ছুরি দেখিয়ে তিনি বলেন, আজকে কিন্তু আমিও গেছি কিন্তু খালি হাতে যাইনি। অন্যরা গেছে রামদা-টামদা লইয়া, আমিও একটা লইছি সভাপতি হিসেবে। নিজের প্রয়োজন যখন পড়ব তখন তো ছাড়ন যাইত না, ছাড়ন যাইব? এ কারণে আমিও একটা লইছি।

সাজিদুল আরও বলেন, কালকে থাইক্কা সকাল নয়টার সময়, ওয়ার্ডের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি যারা আছেন, দয়া করে আল্লাহর ওয়াস্তে একজন সভাপতি, একজন সেক্রেটারি দুইজন দুইটা গাড়ি (মোটরসাইকেল) নেবেন। একটা গাড়ির মধ্যে একজন করে লোক থাকব, একটা করে রামদা থাকব। এটা হইল আপনাদের জন্য বাধ্যকতা, আনতে হবে। আইসা বলবেন, আমার তো গাড়ি নেই। দরকার হলে গাড়ি একটা ভাড়া নিবেন। যাদের গাড়ি নাই, গাড়ি আপনি ভাড়া নিবেন, নাইলে কিনবেন, নাইলে পয়দা করবেন। আপনাদের ভাইঙ্গা ভাইঙ্গা বলতেছি, গাড়ি লইবেন, সাথে একজন লোক নেবেন, হেলমেট পরবেন, রামদা লইবেন। লইয়া আপনারা মুভ করবেন।

নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে সাজিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেকে আছেন বয়স্ক, তারপরও আমি বলব যদি পারেন, আসবেন। তবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অন্য যারা আছেন, দয়া করে আপনারা কেউ খালি হাতে আসবেন না। প্রত্যেককে একটা গাড়িতে একজন লোক নিয়া কালকে সকালে আসবেন।

আর যুবলীগ যারা আছেন, ম্যাক্সিমাম লোকের গাড়ি আছে, ছাত্রলীগেরও গাড়ি আছে। তোমরা হেলমেট পইরা, মাথা বাইন্দা যা নেওয়ার, তা–ই নিবা। অর্থাৎ আগামীকাল থাইক্কা আমি যেহেতু কোমরে এইটা বানছি (কোমরের ছুরি দেখিয়ে), দরকার হলে আরও একটা বড় লইয়াম (নেব)। আগামী নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত, ইলেকশনের দিন আল্লাহ বাঁচাইলে বিজয় মিছিল করে আমরা ফিরবাম (ফিরব)। এইটা হলো আমাদের গন্ডা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের আদেশ এবং নির্দেশ।

এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের অনেকেই হাততালি দেন। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীসহ সচেতন মহলের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সভায় উপস্থিত এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সঞ্জু ভাইয়ের প্রকাশ্যে এসব কথা বলা ঠিক হয়নি। এতে আমাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমাদের প্রতিপক্ষের লোকেরা তার বক্তৃতার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।

ভিডিওর বক্তব্যের বিষয়ে সাজিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। একপর্যায়ে ফোনটি বন্ধ করে দেন তিনি। প্রচারণার বিষয়ে নৌকার প্রার্থী অসীম কুমার উকিলের মুঠোফোনে কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার বলেন, নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা এভাবেই ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন। এতে তাদের কর্মী-সমর্থকেরা ভয়ে আছেন। প্রশাসনের উচিত এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে ভিডিওটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তাছাড়া আমাদের ইলেকটোরাল এনকোয়ারি কমিটির সদস্যরাও বিষয়টি দেখছেন।

পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ বলেন, যেহেতু তিনি প্রকাশ্যে ছুরি দেখিয়ে অন্যদের মোটরসাইকেলে রামদা নিয়ে বের হয়ে ভয়ভীতি দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেনশ সেহেতু এটি স্পষ্ট আচরণবিধির লঙ্ঘন। তাছাড়া এটি আইনগতভাবে অপরাধের শামিল। তারা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com