ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন চালু হলেও বঞ্চিত ৮ উপজেলা: চকরিয়ায় যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন

 
কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশনে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং আশপাশের আটটি উপজেলার অধিবাসীদের জন্য আসন বরাদ্দের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সর্বস্তরের জনগণ। চকরিয়া রেলস্টেশন এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের সব আন্তঃনগর ট্রেন চকরিয়ায় অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য থামানোর জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের দক্ষিণ ও পার্বত্য অঞ্চলের বিশাল অংশজুড়ে অবস্থিত চকরিয়া এবং এর আশপাশের পেকুয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী ও বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার লাখ লাখ মানুষ আধুনিক রেলসেবার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই অঞ্চল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। কিন্তু চকরিয়ায় আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি না থাকায় যাত্রীদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে কক্সবাজার সদর অথবা চট্টগ্রাম শহরে যেতে হচ্ছে। অনেকে সময় বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে সড়কপথ ব্যবহার করছেন। চকরিয়া রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ দেওয়া হলে এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী হবে এবং সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ বদরী বলেন, ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন যোগাযোগ চালু হলেও চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার মানুষ সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। এটি চরম বৈষম্যমূলক। জনস্বার্থে অবিলম্বে চকরিয়া স্টেশনে অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় চকরিয়াবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মানববন্ধনের অন্যতম আয়োজক মাতামুহুরী উপজেলা যুবদল নেতা ও উপজেলা সাইবার দলের সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, চকরিয়া স্টেশনে ট্রেন থামালে তা কেবল চকরিয়াবাসীর নয়, আশপাশের পাহাড়ি ও দ্বীপ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এ দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে চকরিয়া রেলস্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সকালে কক্সবাজার রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল স্টেশনে সতর্ক অবস্থানে ছিল। তাদের পাশাপাশি চকরিয়া থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
জিআরপি ক্যাম্প ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের প্রতি সমর্থন ছিল। তবে রেলের নিরাপত্তা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। চকরিয়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আবদুল মন্নান জানান, বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি চকরিয়া স্টেশন অতিক্রম করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সব কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত চকরিয়ায় আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং আসন বরাদ্দ দেবে, যাতে একটি স্টেশনের মাধ্যমে উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলের আটটি উপজেলার বাসিন্দারা রেলসেবার সুফল ভোগ করতে পারেন।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

‘কেবল মুখস্থ বিদ্যা পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নয়, দেশ রক্ষায় ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় প্রয়োজন’

  বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণ, বলাৎকার, শারীরিক নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ড

সাঈদী রাজাকার ছিলেন না, দাবি মানিক পশারীর ভাইয়ের বোনের ভাষায় ‘সাঈদী আল্লাহর ওলি’, আরেক বোনের দাবি, ‘আমরা সবাই আওয়ামী লীগ’

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী প্রয়াত

Scroll to Top