মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন ১ম ধাপের ‘বইপড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫’।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতোমধ্যেই ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (২৬ আগস্ট ২০২৫) সকাল ১০টায় উপজেলার ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে শুরু হয় প্রথম ধাপের ‘মুকুল পর্বের’ প্রতিযোগিতা’। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। শ্রেণি পাঠ্যক্রমের বাইরের নির্বাচিত ৬৪টি গল্প, প্রবন্ধ ও উপন্যাস পড়ে শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত ও সম্প্রসারণমূলক প্রশ্নের উত্তর দেয়।
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে তিন ধাপে মুকুল, ফুল ও ফল। প্রথম ধাপে প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা পাঁচজন শিক্ষার্থীকে বাছাই করা হবে। পরবর্তী ধাপগুলোতে লটারির মাধ্যমে বই নির্বাচন করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। আর চূড়ান্ত ধাপে উপজেলা পর্যায়ে বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা দশজনকে পুরস্কৃত করা হবে।
এ প্রতিযোগিতায় সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব, আর পাঠ সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে কলেজ রোডস্থ ‘উত্তরণ পাঠাগার’।
শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে বই সংগ্রহ করতে পারবে, পাশাপাশি বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকেও বই নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “শিশু-কিশোররা যাতে বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এ আয়োজন। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা কেবল পরীক্ষায় নয়, জীবনের জন্যও পড়ুক।”
এখন শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পড়াকে ঘিরে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিনের উদ্যোগে উপজেলাব্যাপী বইপড়া প্রতিযোগিতার ব্যাপক আয়োজনকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট’-এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিনের হাত ধরে এ প্রতিযোগিতার শুরু করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। স্বাধীন, প্রজ্ঞাসম্পন্ন, চিন্তাশীল ও সৃজনশীল মূল্যবোধসম্পন্ন, শক্তিশালী মানুষ তৈরির লক্ষ্যেই হয়তো এ প্রতিযোগিতার শুরু। সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজবিদ্যাসহ বিশ্বজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ বইগুলোর পঠন-পাঠন এই প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক সোপান।
কোনো গৎ-বাঁধা, ছক-কাটা, প্রাণহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু নয়, বরং একটি সপ্রাণ সজীব এ প্রতিযোগিতায় পরিবেশ- জ্ঞান ও জীবন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে পূর্ণতর মনুষ্যত্বে ও উন্নততর আনন্দে জেগে ওঠার এক অবারিত পৃথিবী হয়ে উঠুক। এক কথায়, সংস্কৃতিবান, কার্যকর, ঋদ্ধ মানুষ- অনুসন্ধিৎসু, সৌন্দর্যপ্রবণ, সত্যান্বেষী; জ্ঞানার্থ, সক্রিয়, সৃজনশীল ও মানবকল্যাণে সংশপ্তক, মানসবাণিজ্যে, বন্ধুতায়, উষ্ণতায় সচকিত হয়ে উঠবে প্রতিটি শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিভিন্নবিষয়ক জ্ঞান ও রুচিশীল সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার বিকাশ ঘটবে এই প্রতিযোগিতায়, সেই প্রত্যাশা করি।
আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় জ্ঞানপিপাসু প্রতিটি শিক্ষার্থীর অবারিত অংশগ্রহণে আলোকিত মানুষ’ গড়ার আন্দোলন তরান্বিত হোক।”