1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঠেকাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল শোডাউন স্ত্রীর খোঁজে চীনা স্বামী, অভিযোগ টাকা ও কাগজপত্র নিয়ে উধাও মাস্ক পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ঘুষের গ্ৰহনের ভিডিও ভাইরাল, একদিন পরই প্রত্যাহার দেবীগঞ্জের পিআইও বাবুল দেশকে আর দিল্লির গোলাম বানানো যাবে না: রিজভী মুজিব শতবর্ষের লোগোযুক্ত খামে চিঠি পাঠিয়ে বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকি বিদায়ের আগে ডিসি সারওয়ারের চমক, এবার জানা যাবে মাজারের কত টাকা লুট হয় মসজিদ আল্লাহর ঘর, সেখানে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে: সংসদে রেজা আহাম্মেদ এমপি থেকে পিয়ন, সবার কাছে বিরোধীদলীয় নেতার ‘১০ কেজির সারপ্রাইজ’ সারা দেশে নতুন কর্মসূচি এনসিপির, নেতকর্মীদের জরুরি নির্দেশ

​নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বাতিঘর বিন আলী পিন্টু-কে ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’-র বিশেষ সম্মাননা প্রদান

মিলন চন্দ্র দেবনাথ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ২১৬ বার পড়া হয়েছে
​শহরের কোলাহল ছাপিয়ে কিছু মানুষ নিঃশব্দে সমাজকে আলোকিত করেন। তেমনই এক নিভৃতচারী ও প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব মো: বিন আলী পিন্টু। নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম এই সারথিকে তাঁর দীর্ঘ তিন দশকের একনিষ্ঠ অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে জেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রগতিশীল সংগঠন ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’। গত ২৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ  (শুক্রবার) এক অনাড়ম্বর অথচ হৃদয়স্পর্শী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গুণী ব্যক্তিত্বের হাতে ‘সম্মাননা স্মারক’ তুলে দেওয়া হয়। ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’-র সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি.এম আব্দুল বারী সংগঠনটির পক্ষে এই সম্মাননা স্মারক  হস্তান্তর করেন ।
​তিন দশকের একনিষ্ঠ পথচলা:
স্মৃতির পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালে যখন ‘একুশে উদযাপন পরিষদ’ (বর্তমান একুশে পরিষদ নওগাঁ) তার যাত্রা শুরু করে, তখন থেকেই এর প্রতিটি পদক্ষেপে মিশে ছিলেন বিন আলী পিন্টু। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে সূচনালগ্ন থেকেই সকল মানবিক ও সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির উপদেষ্টা হিসেবে নতুন প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছেন।
​ব্যক্তিগত জীবন ও বর্ণাঢ্য ইতিহাস:
১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিনয়ী ও সদালাপী। তাঁর পিতা মরহুম আশরাফ আলী ছিলেন একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর এবং মাতা মরহুমা হালিমা বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী । বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতেও তাঁর শৈশবের কিছু সময় কেটেছে। ১৯৭৪ সালে তিনি নওগাঁ জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সফল ও নীতিবান ব্যবসায়ী হিসেবে নওগাঁর আপামর জনসাধারণের কাছে পরম শ্রদ্ধার পাত্র। চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় বিন আলী পিন্টু বর্তমানে ব্যবসায়িক ব্যস্ততা থেকে অবসর নিয়ে বই আর সংবাদপত্রের সান্নিধ্যে জ্ঞান অন্বেষণে সময় কাটাচ্ছেন।
​অনুপ্রেরণার নাম ‘পিন্টু দাদা’:
সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের কাছে তিনি এক চিরচেনা ও প্রিয় মুখ। তাঁর সুনিপুণ দিক-নির্দেশনা ও হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি একুশে পরিষদের প্রাঙ্গণকে সবসময় প্রাণবন্ত করে রাখে। শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী মিলন চন্দ্র দেবনাথের ভাষায়, “তিনি কেবল একজন সংগঠক নন, তিনি একজন অভিভাবক। ছাত্রজীবন থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর বড় ভাইয়ের মতো শাসন ও ভালোবাসা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাথেয়। তাঁর পরামর্শ ও সাহচর্য আমার জ্ঞানতৃষ্ণাকে সমৃদ্ধ করেছে।”
​কৃতজ্ঞচিত্তের প্রতিধ্বনি:
সম্মাননা প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় বিন আলী পিন্টু জানান, একুশে পরিষদ তাঁর হৃদয়ের স্পন্দন। এই স্বীকৃতি তাঁকে আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে কাজ করে যাওয়ার নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
​নওগাঁর সাংস্কৃতিক যোদ্ধারা মনে করেন, বিন আলী পিন্টুর মতো প্রচারবিমুখ ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে একুশে পরিষদ আসলে গুণীজন মূল্যায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এমন মানুষের হাত ধরেই আগামীতে নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে বলে সকলের বিশ্বাস।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com