1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

সিংগাইরে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়,বিপর্যয়ের মুখে কৃষি উৎপাদন

আল আমিন সরকার
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২৬০ বার পড়া হয়েছে
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। এতে হুমকির মুখে পড়ছে আবাদি জমি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। মাটি কাটার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। আবাদি জমি পরিণত হচ্ছে অনাবাদি। এতে কমতে শুরু করেছে ফসলের উৎপাদন। সেইসাথে পার্শ্ববর্তী জমি মালিকদের মধ্যেও ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পরছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বায়রা ইউনিয়নের নয়াবাড়ি মৌজার নদী সিকস্তির জায়গা, বলধারা ইউনিয়নের খোলাপাড়া এলাকার হুনাখালির চক ও গোলাইডাঙ্গা এলাকার শফিক কোম্পানির ইটভাটা সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা চার-পাঁচটি মেশিন দিয়ে ছয়-সাত ফুট গভীরভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এক জমির মাটি কাটায় অন্যদের জমি উঁচু হচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে তারাও মাটি অথবা জমি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব এলাকার মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতে পারছেন না সাধারণ জনগণ।
স্থানীয়রা জানান, দিনরাত্রি অবাধে মাটি কাটা চলে। মাটি বহনে কাকড়া ও ভারি ড্রাম ট্রাক ব্যবহৃত হওয়ায় গ্রামীন রাস্তা গুলো নষ্ট হয়ে গেছে। পাকা রাস্তা দিয়েও এসব মাটি বহন করা হয়। এর ফলে রাস্তাগুলোও ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে। কুয়াশা অথবা হালকা বৃষ্টি হলে রাস্তায় পরে থাকা মাটি পিচ্ছিল হয়ে এসব রাস্তায় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে।
নয়াবাড়ি এলাকার নদী সিকস্তি জায়গা থেকে মাটি বানিজ্য করার বিষয়ে কথা হয়, জুয়েল, স্বপন ও মনিরের সাথে তারা বলেন, আমরা সাবেক মেম্বার বদরুদ্দিন (বদু) এর কাছ থেকে মাটি কিনে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছি। এর আগে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আমাদেরকে জরিমানা করা হয়েছিলো। জমির কাগজপত্র উপজেলায় জমা দিয়েছি এখন আর কোন সমস্যা নাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে খোলাপাড়া এলাকায় রুমি কোম্পানির নামে মাটি বানিজ্য করছে উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস। একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তার ছেলে খোকন আকবর বলেন, মাটি ছাড়া তো ইট তৈরি হবেনা।
গোলাইডাঙ্গা এলাকার শফিক কোম্পানির ইটভাটা বর্তমানে পরিচালনা করছেন এ.কে.বি কোম্পানি। কোম্পানির ভাই পরিচয়ে বাবু বলেন, আমরা ঢাকা থেকে এখানে শফিকের ইটভাটা ভাড়া নিয়েছি। মাটি শফিক কোম্পানি কিভাবে দেয় সেটা বলতে পারবোনা। এবিষয়ে শফিক কোম্পানির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুল কাইয়ুম খান, মাটি বানিজ্যের কোন সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে নয়াবাড়ি এলাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মাটি বানিজ্যের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com