প্রধান সড়কের পাশেই দেয়াল ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার লুট, বাজারে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ফুলগাজী বাজারে অভিনব কায়দায় স্বর্ণের দোকানে চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বাজারের প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত রাখি স্বর্ণ শিল্পালয় (রাখি জুয়েলার্স)–এ রাতের আঁধারে পর্দা টানিয়ে দোকানের পেছনের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা চুরির ঘটনা ঘটায়।
দোকানের স্বত্বাধিকারী বিপুল বণিক জানান, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং (রবিবার) সকালে তিনি দোকান খুলতে এসে ভেতরের অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে যান। দোকানের পেছনের দেয়াল ভাঙা এবং ভেতরে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।
প্রাথমিকভাবে দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই রাতে দোকানটির পাশের জালালের মুদি দোকান-এর পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
এতে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে একাধিক দোকানকে লক্ষ্য করে এই চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
ঘটনার পরপরই ফুলগাজী বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বাজারের প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত দোকানে কীভাবে এত সহজে দেয়াল ভেঙে চুরি সংঘটিত হলো এবং ওই সময় বাজারের নৈশপ্রহরী ও পাহারাদাররা কী ভূমিকা পালন করছিল—এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফুলগাজী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় থানা পুলিশের একটি টিম। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে।
এ ঘটনায় ফুলগাজী বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে বাজারে রাত্রীকালীন নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চোরচক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, “এভাবে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটতে থাকলে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
ঘটনাটি ফুলগাজী বাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।