ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল যেভাবে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করছে, একইভাবে ছাত্রদলের ‘আদুভাইয়েরা’ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলের সিট দখল করছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট বরাদ্দের প্রতিবাদ জানানোয় ছাত্রদল নেতার হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ তুলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে মুসাদ্দিক জানান, দুপুর ১টা ২২ মিনিটে তিনি এক বন্ধুকে নিয়ে কলাভবনের পেছনের গেট দিয়ে ক্লাসে যাচ্ছিলেন। এ সময় ২০০৬-০৭ সেশনের ছাত্রদল নেতা আলাউদ্দীন তার পথরোধ করেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। শুরুতেই তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন কেন তিনি আলাউদ্দীনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি তাকে জানাই, পোস্টে কোনো আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়নি; বরং তাকে ভদ্রলোক হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কীভাবে তাকে বিশেষ বিবেচনায় সিট দিলো, যা বিদ্যমান নীতিমালার বাইরে।
মুসাদ্দিক অভিযোগ করেন, এ সময় আলাউদ্দীন তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। আশপাশের লোকজন তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি বারবার তেড়ে আসেন। পরে সঙ্গীরা তাকে সরিয়ে নিলেও যাওয়ার সময়ও হুমকি দিতে থাকেন।
তিনি বলেন, তার হুমকিতে আমি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। যে কোনো সময় তারা ক্ষতি করতে পারে। এ ঘটনায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি জানান।
একই সঙ্গে অবৈধভাবে সিট দখলকারীদের উচ্ছেদ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। মুসাদ্দিক আরও বলেন, প্রশাসন যদি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় এবং ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে এর দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।