জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে,অদ্য সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারী,২৬ ইং জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৭০৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত ১৫৮টি ভোটকেন্দ্রকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৭০০ জন পুলিশ সদস্য এবং ৯ হাজার ১৭৮ জন আনসার সদস্য।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের দিন সার্বিক নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। সীমান্তবর্তী ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসারের গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সভায় কুড়িগ্রাম সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল সাঈম বলেন, নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ৬৫০ জন সদস্য মাঠে থাকবে। দুর্গম চরাঞ্চলসহ যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত -এ- খুদা, সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহঃ হুমায়ুন কবির, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী, রাজারহাট আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শাহ আলম,সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ নাহিদসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা। সমাপনী বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত -এ- খুদা বলেন, কুড়িগ্রাম একটি শান্তিপ্রিয় জেলা।
এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কুড়িগ্রামের সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।