বিএনপির ‘ধানের শীষ’-এর মোকাবিলায় শক্ত অবস্থান নিতে মরিয়া ইসলামপন্থীরা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কুষ্টিয়া-১, ২, ৩ ও ৪—সবগুলো আসনেই দলটির প্রার্থীরা এখন সক্রিয় প্রচারণায় ব্যস্ত। মসজিদ-মাদ্রাসা, হাট-বাজার থেকে শুরু করে গ্রামীণ মহল্লা—সবখানেই ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। এতে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াতের এই সর্বাত্মক উপস্থিতি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চারটি আসনেই প্রার্থী দেওয়ায় কুষ্টিয়ায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কার্যত সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ‘অ্যান্টি-স্ট্যাটাসকো’ ভোটব্যাংককে কেন্দ্র করে উভয় দলের মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর): গ্রাসরুট আলেম নেটওয়ার্কে ভরসা
দৌলতপুরের কুষ্টিয়া-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী একজন পরিচিত আলেম ও সংগঠক। চরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় তাঁর দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পৃক্ততাকে সামনে রেখে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নৈতিক শাসন ও ইসলামি মূল্যবোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি গ্রামীণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর–ভেড়ামারা): সংগঠনই মূল শক্তি
মিরপুর–ভেড়ামারা অধ্যুষিত কুষ্টিয়া-২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের দীর্ঘদিনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নায়েবে আমির। দলীয় কাঠামোর ভেতরে তাঁর শক্ত অবস্থান রয়েছে। শিল্পাঞ্চল, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভোটারদের টার্গেট করে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর): ধর্মীয় বক্তৃতার জনপ্রিয়তাকে ভোটে রূপান্তরের চেষ্টা
কুষ্টিয়া সদর আসনে জামায়াত এগিয়েছে একজন আলোচিত ধর্মীয় বক্তাকে সামনে এনে। শহর ও আশপাশের এলাকায় তাঁর অনুসারী ও মাহফিলকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ককে সংগঠিত ভোটে রূপান্তর করাই মূল কৌশল। ধর্মীয় আবেগ ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কুষ্টিয়া-৪: ইউনিয়নভিত্তিক সংগঠনে জোর
কুষ্টিয়া-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী একজন অভিজ্ঞ স্থানীয় নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি। ইউনিয়নভিত্তিক রুকন-কর্মী কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে কৃষক, শ্রমিক ও প্রবাসী পরিবারের সমর্থন আদায়ে সক্রিয় তিনি।
বিশ্লেষণ: শক্ত সংগঠন বনাম ইমেজ সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন এবং মসজিদ-মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সামাজিক প্রভাব। তবে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত বিতর্ক এখনো দলটির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণ ও নগর মধ্যবিত্ত ভোটারদের একটি অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতার সংকট কাটেনি।
ফলে কুষ্টিয়ার চারটি আসনেই জামায়াতকে একদিকে বিএনপির সঙ্গে ভোট ভাগাভাগির বাস্তবতা, অন্যদিকে নিজস্ব রাজনৈতিক ইমেজের সীমাবদ্ধতা—এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ সামলে এগোতে হচ্ছে।