1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তদন্তে মিলল না জামায়াত নেতার দাবি, চাঁদাবাজির অভিযোগই জোরালো ডুবন্ত পণ্যবাহী কার্গোতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের সন্দেহ নোবিপ্রবিতে শহীদুল্লা কায়সারের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক সেমিনার মন্ত্রীর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের জামিন জনতা ব্যাংক কাদিরগঞ্জ শাখার এটিএম বুথের উদ্বোধন বাজেটে মোট ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকা, কমছে সরকারি ব্যয়: সংসদে অর্থমন্ত্রী কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত, আর এক খেলার পেছনে গোটা পৃথিবীর উন্মাদনা: আহমাদুল্লাহ আরও ২,৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার পেল ইসলামী ব্যাংক ‘উড়ে যাওয়া পাখি কোনো দাগ রাখে না’: জাপানিদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার গোপন রহস্য

খাগড়াছড়ির সেনা হেফাজতে ইউপিডিএফ সংগঠক নবায়নকে হত্যার ৩ বছরেও বিচার হয়নি

এস চাঙমা সত্যজিৎ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫
  • ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

খাগড়াছড়ি সেনা হেফাজতে ইউপিডিএফ সংগঠক নবায়ন চাকমাকে হত্যার ৩ বছর পরও বিচার হয়নি। সেনাবাহিনীর অমানুসিক নির্যাতনে মৃত্যু হয় ইউপিডিএফ সংগঠক নবায়ন চাকমা মিলনের হত্যার ৩ বছরেও কোন বিচার হয়নি বলে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে। আজ ১৫ মার্চ ২০২৫ সেনাবাহিনীর হেফাজতে ইউপিডিএফ সংগঠক নবায়ন চাকমা মিলন (সৌরভ)কে হত্যার ৩ বছর পূর্ণ হলো। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের এই দিনে সেনাবাহিনী তাাকে আটকের পর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। নবায়ন চাকমা মিলন দীঘিনালা উপজেলার ৪নং দীঘিনালা ইউনিয়নের বাগানপাড়া এলাকার মনিভদ্র পাড়ায় শান্তি রঞ্জন চাকমা নামে একজনের বাড়িতে অবস্থানকালে ২০২২ সালের ১৫ মার্চ ভোররাত সাড়ে ৩টার সময় দীঘিনালা সেনা জোনের একদল সেনা সদস্য তার অবস্থান করা বাড়িটি ঘেরাও করে এবং তাকে আটক করে। আটকের পর পরই সেনারা তার ওপর হামলে পড়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। ইচ্ছেমত নির্যাতনের পর এক পর্যায়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়লে সেনারা মুমূর্ষু অবস্থায় সেখান থেকে তাকে গাড়িতে তুলে এনে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানেই সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে দীঘিনালা উপজেলা কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎক ডা. সানজিদা হাসপাতালে আনার আগে তার মৃত্যু হয়েছিল বলে সে সময় একটি অনলাইন পোর্টালকে জানিয়েছিলেন। নবায়ন চাকমা দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের খিয়াংঘাট এলাকার আনন্দ চাকমার পুত্র। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইউপিডিএফ’র সাথে সম্পৃক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নবায়ন চাকমার ওপর অত্যাচার শেষে তাকে নিয়ে চলে যাবার সময় ঘটনাস্থলে এক সেনা সদস্য একটি টুপি ফেলে রেখে আসে। ওই টুপিতে “সৈনিক শরীফ” লেখা ছিল। সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন শান্তি রঞ্জন চাকমার স্ত্রী ও তার বাড়িতে থাকা ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্র। তারা নবায়ন চাকমার ওপর মধ্যযুগীয় নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছিলেন। সেনারা নবায়ন চাকমা মিলনকে আটকের পর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে অজ্ঞান ও অর্ধমৃত অবস্থায় সেখান থেকে নিয়ে গিয়েছিল বলে তারা জানিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, সেদিন সেনা সদস্যরা নবায়ন চাকমাকে হাতে-পায়ে বেঁধে মাটিতে ফেলে সাংঘাতিকভাবে মারধর করে। তারা লাঠি, বন্দুক দিয়ে মারধর করে, বুটজুতা পায়ে বলের মতো লাথি মারে ও টানা-হেঁচড়া করে। সেনারা তার অন্ধকোষেও লাথি দিয়ে আঘাত করে এবং ‘আঝার বিজি’ গাছের (বনের এক ধরনের শক্ত কাঠ) লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরে সেনারা পালাক্রমে তাকে মারধর করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে আর উঠতে না পারলে সেনারা তাকে পানি ঢেলে দেয়। এরপর সেনারা সেখান থেকে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় কাঁধে করে নিয়ে গিয়েছিল। সেনা হেফাজতে নবায়ন চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। নবায়ন চাকমা হত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। দেশের বিভিন্ন সংগঠন নবায়ন চাকমা হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক কমিশন (সিএইচটি কমিশন) সেনা হেফাজতে নবায়ন চাকমা মিলনের মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানায়। সেনারা সেদিন বাড়ির মালিক শান্তিরঞ্জন চাকমাকেও হাত-পা বেঁধে নিপীড়ন ও হয়রানি করে এবং বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি, জিনিসপত্র তছনছ এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতন চালিয়ে নবায়ন চাকমাকে হত্যার ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত। কিন্তু সরকার তথা রাষ্ট্র এ ঘটনার বিচার তো দূরের কথা, তিন বছরেও ঘটনায় জড়িত সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন পদক্ষেপ নেয়নি। দেশের এই বিচারহীনতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত সেনাবাহিনী দিন দিন বেপরোয়া হয়ে রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, বিচার বহির্ভুত হত্যা, নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটিয়েই চলেছে। চব্বিশের ছাত্র=জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়নমূলক পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয়নি। সেখানে আগের মতোই সেনাশাসন বলবৎ রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com