রংপুরের পীরগঞ্জের খালাসপীর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা বর্তমানে চরম অরাজকতা ও অব্যবস্থাপনার মুখে পড়েছে যেখানে সকাল সাড়ে দশটা বেজে গেলেও হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু না হওয়া এবং দায়িত্বশীল কোনো চিকিৎসকের উপস্থিতি না থাকা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১১ থেকে ১২ জন স্টাফের একটি বিশাল বহর এই হাসপাতালে কাগজ-কলমে নিয়োজিত থাকলেও সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় একমাত্র মহিলা ফার্মাসিস্ট ছাড়া আর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দেখা মেলেনি, অথচ নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে তিন দিন সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিত থেকে রোগীদের সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো লেশমাত্র নেই। হাসপাতালের এমন জনশূন্যতা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ নিয়ে উপস্থিত ওই একমাত্র মহিলা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এর কোনো সদুত্তর বা যুক্তিযুক্ত জবাব দিতে পারেননি যা কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই জনসমক্ষে স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষগুলো বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও অসুস্থ শিশুরা একটু সুচিকিৎসা ও সরকারি ওষুধের আশায় এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে রিক্ত হাতে ফিরে যাচ্ছে যা অত্যন্ত অমানবিক এবং এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে যে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগের নাকের ডগায় এমন অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখ-কান কি তবে বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি নীতিমালা ও জনসেবার অঙ্গীকার তোয়াক্কা না করে চিকিৎসকদের এই নিয়মিত অনুপস্থিতি এবং হাসপাতালের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার এখানে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে, তাই জনস্বার্থে অতি দ্রুত এই ভয়াবহ অনিয়ম খতিয়ে দেখে দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।