কয়টা আসন আছে যেখানে চোখ বন্ধ করে বলা যায় জামায়াত জিতবে? ১০/২০/৩০? সেসব আসন বাদে বাকী ২৭০টা আসনে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে, তাই তো? তাহলে ১১দলীয় সমঝোতাটা আসলে কার স্বার্থে? জামায়াতের নিজের স্বার্থেই জোটের প্রয়োজন, আগের পোস্টে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত লিখেছি। অথচ জামায়াত এখন জমিদারি চেয়ারে বসে আসন বন্টন করার ভাব নিচ্ছে।
কথার কথা, ২৭০ টা আসনে জামায়াত ২য় অবস্থানে থাকবে। ধরুণ সেসব আসনে তৃতীয় অবস্থানে আছে ইশা আন্দোলন, চতুর্থ অবস্থানে এনসিপি/খেলাফত মজলিস/এবি পার্টি ইত্যাদি দল। তাহলে, সমঝোতার ক্ষেত্রে বাস্তবিক এবং কমনসেন্স হল ২য়, ৩য় এবং চতুর্থের মধ্যে বোঝাপড়া, কেননা ৩য় এবং ৪র্থের ভোট এবং সাপোর্ট ছাড়া ২য় অবস্থানে থেকেও জামায়াতের বেইল নাই।
এখন প্রশ্ন হল, ৩য় এবং ৪র্থ অবস্থানে থাকা ইশা আন্দোলন/মজলিশ/এনসিপি/এবি পার্টি কেন সমঝোতায় যাবে, গেলে কি প্রক্রিয়ায় যাবে? তারা স্ব স্ব দলীয় রাজনীতির স্বার্থেই আত্মমর্যাদার সাথে সমঝোতায় জেতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ৩য় অবস্থানের ইশা সব জায়গায় ৩য় নয়, কিছু আসনে তারা নিশ্চয়ই ২য় অবস্থানে রয়েছে, কিছু আসনে ১ম অবস্থানেও আছে। একই অবস্থা অন্যান্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সেজন্য প্রত্যেকটা দল নিজ নিজ ক্যালকুলেশন মতে একটা বাস্তবভিত্তিক আসনের জন্য সমঝোতা করতে চেয়েছিল। কেউই জামায়াতের কাছে জমিদারি বন্দোবস্ত চায়নি।
এনসিপি চেয়েছিল ৩০টা, ইশা আন্দোলন অন্তত ৬০-৭০টা আসন চেয়েছিল, এবি পার্টি চেয়েছিল ২০-২৫টা। যেসব আসনগুলি এই দলগুলো চেয়েছিল সেসব আসনে তারা ২য় বা ৩য় অবস্থানে আছে বলেই সমঝোতা করতে নেমেছে। এই সমঝোতার প্রচেষ্টায় প্রায় সবগুলো দলই সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখিয়ে ছাড় দিয়েছে, কেবল জামায়াত ছাড়া। জামায়াত বিক্রি করতে চেয়েছে তার পেশীশক্তি। জামায়াতের লোকদের ভাষা ও তর্কগুলো খেয়াল করলেই এটা স্পষ্ট হয়। তারা মনে করে সাংগঠনিক কমিটি আছে বলেই তারা জমিদার-তালুকদার! সেজন্য তারা মনে করে বাকী ১০ দল মিলে তাকে সার্ভ করুক, ২য় অবস্থানে থাকা আসনগুলোতেও জামায়াতকে জিতিয়ে আনুক এবং উচ্চকক্ষে জামায়াতকে একচেটিয়া জায়গা করে দিক।
এইটা হইল অতিলোভ ও ক্ষমতার বিকার। সাংগঠনিক মাসল পাওয়ার দেখিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করা। অথচ তারা ভুলে যায় এই সাংগঠনিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ বছর তারা মারা খেয়েছিল, কারন তাদের ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বৈধতাকে (লেজিটেমিসি) নাই করে দেয়া হয়েছিল।
১১ দলীয় জোটকে কার্যকর রাখতে জামায়াতকে সর্বোচ্চ ১৪৯ আসনে নির্বাচন করতে হবে। বাকী ১৫১ আসন অন্যান্য দলগুলোকে সমঝোতায় ছেড়ে দিতে হবে। এটা না করে গাউর্যামি করার ফলাফল মিলবে হাতেনাতে, শীগ্রই। ইশা আন্দোলন চলে গেলে জামায়াত আগের মতই ধর্মীয় বৈধতার সংকট মোকাবেলা করতে হবে। নির্বাচনের পর এনসিপিও চলে যাবে। তখন বিএনপির পক্ষে জামায়াতকে ঢলা দেয়ার জন্য নতুন কোন ন্যারেটিভ খুঁজতে হবে না। আমাদেরকে তখন জামায়াতের মানবাধিকার নিয়ে আবারও আগেরকার মত লেখালেখি করতে হবে।