1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী ধামইরহাটে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন সাতক্ষীরার কলারোয়ার পুত্রবধূ তুলি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সমাবেশ অনুষ্ঠিত পুলিশের বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় ২৭ আসামি গ্রেফতার মাদারীপুর শিবচরে তেলবাহী ট্রাক ডাকাতি মামলায় দুইজন গ্রেফতার জ্বালানি পেতে সেচ পাম্প নিয়ে ফিলিং স্টেশনে কৃষকের ভিড় মাদারীপুরে বেকারিকে নিরাপদ খাদ্য আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টার এখন ‘মৃত্যুফাঁদ’: ঝুঁকিতে চিকিৎসক-নার্স, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। মানিকগেঞ্জ নব নিযুক্ত জেলা পরিষদের প্রশাসকের সাথে হরিরামপুর প্রেসক্লাবের মত বিনিময়

জামালপুর চরাঞ্চলে টমেটোর বাম্পার ফলন

মোহাম্মদ বিপুল হোসেন
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৪৮৯ বার পড়া হয়েছে

গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখছেন জামালপুরের চরাঞ্চলের টমেটো চাষিরা। এ বছর শুরু থেকেই টমেটোর বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামও দ্বিগুণ পেয়ে খুশি কৃষকরা। প্রথম দিকে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হয়েছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। তবে বর্তমান বাজার দর ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা হলেও তা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ।

তবে নদে বন্যার পানি না আসায় অনেক চাষিদের একাংশের টমেটো ক্ষেত মরে গেছে। কৃষি অফিস বলছে, দেশের টমেটো চাহিদা পূরণে দিন দিন টমেটো চাষে এ অঞ্চলের কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বছরের প্রথমেই দ্বিগুণ লাভ পেয়েছেন কৃষকেরা।

জামালপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল শরিফপুর, তুলশীচর, বারুয়ামারি,চরগোবিন্দবাড়ী,তুলসীরচর, টিকরাকান্দি, নরুন্দি ও নান্দিনায় এ বছর টমেটোর চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো এবং দাম দ্বিগুণ পাওয়া চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে।

সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের চরগোবিন্দবাড়ী গ্রামের কৃষক জহুরুল হক জানান, গত বছর টমেটো চাষ করে তারা লোকসানে পড়েছিলেন। এ বছর সেই ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখছেন। শুরুতেই প্রতি মণ টমেটো বিক্রি করেছেন ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।’

তিনি আরও জানান, প্রতি বিঘা জমিতে টমেটো আবাদে তাদের খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সেখানে বিক্রি করেছেন ২ থেকে ৩ লাখ টাকায়। ফলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখেছেন তারা।
এ বছর চরাঞ্চলে বারী, বিউটিফুল, বিউটিফুল-২, বিউটিফুল-৩, এবং বিউটিফুল প্লাস জাতের টমেটো চাষ হয়েছে। ফলে সুস্বাদু ও বড় আকারের টমেটো পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বাজারে চাহিদা থাকায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে টমেটো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।’

সারা দেশে এ টমেটোর চাহিদা থাকায় রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও রংপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এ অঞ্চলের টমেটো নিয়ে যাচ্ছেন।

পাইকাররা জানান, প্রতি বছর এ অঞ্চলের টমেটো কিনে নিয়ে যান তারা। এখানকার টমেটো যেমন সুস্বাদু তেমনি রং ও সাইজ। তাই দেশের অন্য জেলার চেয়ে এ অঞ্চলের টমেটো নিতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। গত বছর টমেটো চাষে বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। এতে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিলেন। এমনকি অনেকে আবাদের খরচই তুলতে পারেননি। এ বছর টমেটোর ফলন বেশি পাওয়ায় গত বছরের ক্ষতিও কাটিয়ে উঠতে পারছেন তারা।

কৃষকরা জানান, প্রতিটি গাছে জোয়ার ঠিক ছিল, ফলন ভালো ও টমেটোর সাইজ বড় বড় হয়েছে। ফলে বছরের শুরুতেই লাভের দেখা মিলেছে। প্রতি বিঘায় ৮০ থেকে ৮৫ মণ টমেটো তুলতে পেরেছেন কৃষকরা। সিজনের শুরুতেই প্রতি মণ ১৭ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি করেছেন তারা। এতে খরচের দ্বিগুণ টাকা লাভ হয়েছে। এখনো ক্ষেতে যা টমেটো আছে, তাতে আগের বছরের ক্ষতি কাটিয়ে তোলার আশা করছেন কৃষকরা।

তবে পানি সংকটে সদর উপজেলার চরযথার্থপুর বহ্মপুত্র চরের অনেক কৃষকের টমেটো গাছ মারা যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, বন্যার পানি তাদের ক্ষেতে না আসায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ বছর তারা বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাদের অভিযোগ, এ বিপর্যয় ঠেকাতে সার-কীটনাশক দিয়েও রক্ষা পায়নি তারা। আর কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তাও খোঁজ নেয়নি।

জামালপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা ইয়াছমিন বলেন, ‘এ বছর জনপ্রিয় সব জাতের টমেটো আবাদ করা হয়েছে। দিন দিন কৃষকদের টমেটো আবাদে আগ্রহ বাড়ছে। কারণ তারা বাজারে আশানুরূপ দাম পাচ্ছে। শীতে টমেটোর যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য মাঠ পর্যায়ে উপকৃষি কর্মকর্তারা যাচ্ছেন। আমরাও যাচ্ছি, চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা আশাবাদী, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভবান হতে পারবে কৃষকরা।’

কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের অভিযোগের শেষ নাই। কৃষি অফিসাররা যদি মাঠে না যায়, তাহলে ফলন কিভাবে বাড়ছে!’এ বছর জামালপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলে এক হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com