দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১১ জানুয়ারি রাতে মায়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি-এর পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে টেকনাফ উপজেলার লেদা বিওপি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে লেদা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-১১ পয়েন্ট থেকে প্রায় ৪০০ গজ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আলীখাল পোস্ট সংলগ্ন নাফ নদীর তীরবর্তী কেওড়া বাগানে কৌশলগত অবস্থান নেয় বিজিবির আভিযানিক দল। এ সময় নাফ নদীর কিনারা দিয়ে কেওড়া বাগানের দিকে অগ্রসর হওয়া দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গ্রেফতার এড়াতে দ্রুত মায়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে কেওড়া বাগান এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ১২ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে বিশেষভাবে মোড়কজাত অবস্থায় একটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্যাকেট থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত মাদক কারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান বলেন,
“আজকের এই সফল অভিযান আবারও প্রমাণ করে যে, দেশের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অবিচল। সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি সুরক্ষায় এবং মাদক চোরাচালান রুখে দিতে ২ বিজিবির অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট আইনগত প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।