বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা। প্রখর রোদ ও অসহনীয় গরমে জনজীবন যখন এমনিতেই হাঁসফাঁস করছে, ঠিক তখনই ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, দিনে কয়েকবার এবং রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। ফলে শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই রাত জেগে সময় কাটাচ্ছেন।
উপজেলার ৩ নম্বর গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের শালদিঘী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা বৃদ্ধা ফুল জান বেগম বলেন, “গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে ঘুমাতে পারি না। বয়সের কারণে এই কষ্ট সহ্য করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বিনোদনগর ইউনিয়নের এক গৃহিণী বলেন, “ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। বিদ্যুৎ চলে গেলে তারা কান্নাকাটি করে, গরমে অস্থির হয়ে পড়ে।”
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে পরীক্ষার্থীরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না, যা তাদের পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতেও। ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। বিদ্যুৎ না থাকায় লেদ কারখানা, মোটর গ্যারেজ, দুগ্ধ খামার, মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও অটো রাইস মিলেও উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
নবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, পিক আওয়ারে উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮.৫ মেগাওয়াট, অথচ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩.৫ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এতে উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক পর্যায়ক্রমে লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নবাবগঞ্জবাসী দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট জনজীবনে আরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।