দেশজুড়ে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালের নিজস্ব জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়, এতে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
বিষয়টি স্থানীয় গণমানুষের নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নজরে আসার পর তাঁর নির্দেশনায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালটি পরিদর্শন করে। অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলটি দেখতে পায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে ওয়ার্ডে ভর্তি শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ রোগীরা অসহনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান ও অন্যান্য জরুরি যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় রোগীদের অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে।
এ সময় প্রতিনিধি দল হাসপাতালের টিএস ডা. আব্দুর রউফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে। জেনারেটরটি কেন অচল রয়েছে এবং দ্রুত কীভাবে এটি সচল করা যায়, সে বিষয়ে জোর দাবি জানানো হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। রোগীরা তাদের ভোগান্তি, অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় সেবার ঘাটতির কথা তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। এই হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও সব ধরনের অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে দ্রুত জেনারেটর সচল করে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।
তারা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি মানসম্মত ও দৃষ্টান্তমূলক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে।