ব্যাপারীপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও চলাচলের অনুপযোগী একটি কাঁচা সড়ক নিজ উদ্যোগে মেরামতের উদ্যোগ নেন তিনি। কোনো সরকারি সহায়তা ছাড়াই নিজের শ্রম ও খরচে রাস্তার গর্ত ভরাট করে মাটি ও বালু ফেলে সেটিকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলেন।
রাস্তা সংস্কারের পর বিপ্লব ওই সড়ক ব্যবহারকারী অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে প্রতিবার যাতায়াতে ৫ থেকে ১০ টাকা করে পারিশ্রমিক চাইছিলেন। প্রথমদিকে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে চললেও পরবর্তীতে একই এলাকার একাধিক চালকের সঙ্গে এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে এক চালকের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়, যা পরে বড় ধরনের বিরোধে রূপ নেয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের দাবি, এ ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং পরিকল্পিতভাবে বিপ্লবকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গত ১৯ এপ্রিল (রোববার) দুপুরে কৈলাগ ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে প্রকাশ্যে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা জানান, ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
স্বজনদের ভাষ্য, মারধরের ঘটনার পর বিকেলের দিকে বিপ্লব আবার অটোরিকশা নিয়ে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যার দিকে ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার একটি গ্যারেজে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যা হত্যার অভিযোগকে আরও জোরালো করছে বলে দাবি স্বজনদের।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, পূর্বশত্রুতা ও সামান্য টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে একা পেয়ে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিপ্লব ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। চার বছর বয়সী এক কন্যা ও কোলে থাকা দুগ্ধপোষ্য পুত্র সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী এখন দিশেহারা। পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারের একমাত্র ভরসা হারিয়ে তারা এখন মানবেতর জীবনযাপনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, সামান্য কয়েক টাকার বিরোধে এ ধরনের নির্মম সহিংসতা সমাজে উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল্লাহ বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ সক্রিয়ভাবে তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে একাধিক টিম কাজ করছে।