প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরমান পাপ্পু ও তার কয়েকজন বন্ধু রাস্তায় আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে পাপ্পু প্রস্রাব করার জন্য রাস্তার পাশে যান, যেখানে কিছুটা অন্ধকার ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি “ছিনতাইকারী, ছিনতাইকারী” বলে চিৎকার শুরু করেন। দৌড়ে গিয়ে দেখা যায়, তিন-চারজন দুর্বৃত্ত তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাচ্ছে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শমরিতা হাসপাতাল এবং পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবার জানায়, পাপ্পু দারাজ কোম্পানির একটি গোডাউনে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার সময় তিনি রাতের শিফটে কাজে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। তার বাবা মো. একরাম হোসেন বলেন, “সন্ধ্যায় আমার কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে বের হয়েছিল পাপ্পু। কিছুক্ষণ পরেই খবর পাই, ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে।” নিহতের খালাতো ভাই রাজু জানান, কিছুদিন আগে আরমান স্থানীয় এক ছিনতাইকারীকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বের শত্রুতার জের ধরেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পাপ্পু মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের দিনমজুর মো. একরাম হোসেনের ছেলে। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। বর্তমানে রাজধানীর মধ্য বেগুনবাড়ি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী শামীমুর রহমান বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।” এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।