1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাজিতপুরে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা পাইকগাছার ২ তরমুজ ব্যবসায়ী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত! সালিশি চুক্তি ভেঙে দ্বন্দ্ব তীব্র—লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ রায়গঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত ​নওগাঁর শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা: এক বিরামহীন পথচলার নাম প্রফেসর মুহম্মদ ওয়ালীউল ইসলাম ​​নওগাঁ শহর এখন যানজটের নগরী: ফুটপাত দখল আর অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ জনজীবন নাজিরপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন, জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি নাজিরপুরে ডাকাত নিহতের ঘটনায় ডাকাত সর্দার গ্রেফতার থানায় গিয়ে নারী এসআইকে ‘ম্যাডাম’ ডাকায় যুবক আটক! প্রবাসীরা কষ্টে থাকলে দেশও ঝুঁকিতে পড়বে : জামায়াত আমির

​​নওগাঁ শহর এখন যানজটের নগরী: ফুটপাত দখল আর অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ জনজীবন

মিলন ​চন্দ্র দেবনাথ , নওগাঁ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে
​উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর নওগাঁ এখন যানজট, ধুলাবালি আর বিশৃঙ্খলার এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়নের অভাব, সড়কের বেহাল দশা এবং প্রভাবশালী মহলের মদতে ফুটপাত দখলের মহোৎসবে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি—সবখানেই এখন অব্যবস্থাপনার ছাপ। জনস্বার্থকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একশ্রেণীর অসাধু মানুষ নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকলেও, দেখার যেন কেউ নেই।
​ফুটপাত এখন দোকানীদের দখলে:
​সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের সিংহভাগ ফুটপাত এখন হকার এবং স্থায়ী-অস্থায়ী দোকানীদের দখলে। পথচারীদের হাঁটার জায়গা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। বড় বড় দোকানগুলোর সামনে মালামাল স্তুপ করে রাখায় রাস্তাগুলো আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
​সড়কের বেহাল দশা ও দীর্ঘসূত্রী মেরামত:
​শহরের রাস্তাগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। খানাখন্দ আর কাদা-পানিতে একাকার হয়ে আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অভিযোগ রয়েছে, সামান্য একটি রাস্তা মেরামত করতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সময় পার করে দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই ধীরগতির কাজের ফলে সৃষ্ট ধুলাবালিতে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শহরবাসী। রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনার স্তুপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, যা পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।
​রাজনৈতিক দাপট ও ব্যক্তি স্বার্থের বলি সাধারণ মানুষ:
​স্থানীয়দের মতে, এই বিশৃঙ্খলার মূলে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং কতিপয় অসাধু ব্যক্তির স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসিকতা। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং দুর্বৃত্তদের মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন করে জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় উন্নয়ন হলেও, তার সুফল ভোগ করছে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ যারা সম্পদের পাহাড় গড়তে ব্যস্ত।
​কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন:
​শহরের এই অরাজক পরিস্থিতির বিপরীতে প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, যানবাহন চলছে যে যার ইচ্ছামতো। জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শহরটি এখন এক অচল নগরীতে পরিণত হয়েছে।
​ভুক্তভোগী জনগণের দাবি:
অনতিবিলম্বে ফুটপাত দখলমুক্ত করে রাস্তা প্রশস্ত করা, দ্রুত সড়ক মেরামত সম্পন্ন করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নওগাঁ শহর গড়ে তোলা হোক। অন্যথায় এই যানজট ও দূষণ নওগাঁর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com