কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে দুধকুমর নদের বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এতে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বল্লভেরখাস ইউনিয়নের শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরীর বল্লভেরখাস ইউনিয়নের শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন দুধকুমর নদের পশ্চিম পাড়ে বিআইডব্লিউটির খননকৃত বালু ভরাট বাঁধ ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে কেটে দীর্ঘদিন ধরে বালু বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ নদী ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকায় ঘনবসতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও ফসলি জমি রয়েছে। এভাবে নদীর বাঁধ কেটে বালু অপসারণ চলতে থাকলে আগামী বর্ষায় বিপুল পরিমাণ জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিদিন শতাধিক ট্রলি, থ্রি-হুইলার, ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে ভেকু দিয়ে কাটা বালু বিক্রি করা হচ্ছে। গাড়িপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। বালুর হিসাব রাখতে নদীর পাড়ে তাঁবু খাটিয়ে লোক বসানো হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই অবৈধ বালু ব্যবসা।
শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকার আবুল কাশেম, আব্দুল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মাইদুল ইসলামসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের জামাল হোসেন মেম্বারের ছেলে জাকারিয়া হোসেন নিজেকে বেরুবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে দাপট দেখিয়ে বালু বিক্রি করছেন। বাধা দিলেও কেউ কথা শুনছে না।
অভিযোগের বিষয়ে
*বেরুবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা “জাকারিয়া হোসেন বলেন এখন সময় আমাদের, আমরা টাকা উপার্জন করবো কাউকে গোনার সময় নেই*
* বল্লভের খাস ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর জামাল বলেন, দুধকুমর নদের ভাঙ্গনে অনেক এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত বালুকাটা বন্ধ না হলে শিমুলতলা ও ফান্দের চোরের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হবে। *
*বিষয়ে বল্লভের খাস ইউনিয়নের উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জানান সরকারি কমিশনার (ভূমি) এর নির্দেশে বালুকাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে পুনরায় বালু কাটলে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে *
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন জাহান লুনা বলেন নদীর পাড় কেটে বালু বিক্রির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।