নাটোরের লালপুর উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের আবেদমোড় বাজারে এক ব্যবসায়ীর কাঁচামালের আড়ৎ ঘর জবরদখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন নামধারী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এর সমর্থক বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য সাময়িকভাবে ঘরটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো ঘরটি দখলে রেখে দিয়েছেন। বর্তমানে ঘর ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালে দুয়ারিয়া আবেদমোড় এলাকায় জান মোহাম্মদের তিন ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম ও আব্দুর রহিম যৌথভাবে তিন শতক জায়গা কিনে একটি ঘর নির্মাণ করেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে তারা কাঁচামালের আড়ৎ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে লালপুর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এর নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে থানা যুবদলের আহ্বায়ক রাকিব হোসেন ঘরটি ব্যবহারের অনুমতি চান। সরল বিশ্বাসে ব্যবসায়ী পরিবারটি সাময়িকভাবে ঘরটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
তাদের দাবি, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও যুবদল নেতা রাকিব হোসেন, কলসনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিএনপি নেতা জিন্নাহ, আজিজুল ইসলাম আজি এবং প্রতিমন্ত্রীর আরও কয়েকজন সমর্থক ঘরটি খালি করে দিচ্ছেন না। এখন নিজেদের বৈধ জায়গা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেরত চাইতে গেলে প্রতিমন্ত্রীর পরিচয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে কলসনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিএনপি নেতা জিন্নাহ মুঠোফোনে বলেন, “জায়গাটি সরকারি পোস্ট অফিসের।” সরকারি জায়গায় দলীয় কার্যালয় নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোনভাবেই সরকারি জায়গা দখল করার সুযোগ নেই। দলীয় কার্যালয়টি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”
অন্যদিকে, লালপুর থানা যুবদলের আহ্বায়ক রাকিব হোসেন মুঠোফোনে জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রাকসা পোস্ট অফিসের জায়গা উন্মুক্ত অবস্থায় আছে। সেখানে কোনো দলীয় কার্যালয় নেই।”
এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত নিজেদের জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এবিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুনেছি তবে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানা যায়।