1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন সমাজসেবক আমিনুল ইসলাম কেন্দুয়া পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক নুরুজ্জামান নূর প্ল্যান পাসের নামে টাকা আত্মসাত পঞ্চগড়ে কোরবানির আলোচনায় শীর্ষে ৪০ মণের ‘যুবরাজ’ নড়াইলে নিলু খানের তত্বাবধায়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একাধিক ঝটিকা মিছিল | কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ওসির চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি কোরবানির পশুর চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি হবে : ধর্মমন্ত্রী ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা শান্তির পথ খুলতে পারে: শাহবাজ শরিফ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিল ইয়েমেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় তেহরানে ক্ষতিগ্রস্ত ৬০ ঐতিহাসিক স্থাপনা

প্ল্যান পাসের নামে টাকা আত্মসাত

মোঃ এরশাদ আলী
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে
প্ল্যান পাসের নামে টাকা আত্মসাত
বগুড়ায় প্ল্যান অনুমোদন ছাড়াই অর্থ আদায়ের অভিযোগ
অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগের প্রস্তুতি
আদমদীঘি( বগুড়া) প্রতিনিধি; বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভায় বাড়ির নকশা (প্ল্যান) অনুমোদন না দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে খণ্ডকালীন নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসফিকুর রহমান ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্ল্যান অনুমোদনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনো অনুমোদিত নকশা, রশিদ কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়নি।ভুক্তভোগীদের দাবি, মাসফিকুর রহমানের মৌখিক আশ্বাসে অনেকেই বাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং কেউ কেউ ইতোমধ্যে নির্মাণ শেষও করেছেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা অনুমোদিত নকশার কোনো নথিপত্র হাতে পাননি। এ সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পৌরসভার প্ল্যান পাসের নামে সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত মাসফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে পৌরসভার খণ্ডকালীন কর্মচারী হয়েও বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আমিনুল ইসলাম বাড়ি নির্মাণসংক্রান্ত তদারকি ও গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করেন।স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো এলাকায় ভবন নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ বা সম্প্রসারণ বৈধ নয়। স্থানীয় সরকার ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৯৬-এর ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “অথরাইজড অফিসারের পূর্ব মঞ্জুরি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি ইমারত নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ কিংবা সংযোজন বা পরিবর্তন করিতে পারিবেন না।”অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগের সান্তাহার পৌর শাখার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে মাসফিকুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং আমিনুল ইসলাম আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কমিটি ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর অনুমোদিত হয় অভিযোগকারীরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পৌর প্রশাসনে তদারকি দুর্বল হয়ে পড়লে সেই সুযোগে অর্থের বিনিময়ে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণে মৌখিক অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসক নিয়োগের পর পৌরসভার স্বাভাবিক মনিটরিং কার্যক্রম দুর্বল হওয়ায় অনিয়ম আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।সান্তাহার পৌর এলাকার একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মাসফিকুর রহমান তৎকালীন মেয়রের অগোচরে অর্থের বিনিময়ে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের তদারকি করতেন। তাদের দাবি, পৌরসভা থেকে সীমিত বেতন পেলেও তার বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত পৌর এলাকায় অন্তত ২০০টির বেশি পাকা ভবন নির্মাণ হয়েছে, যার অধিকাংশেরই অনুমোদিত নকশা নেই। তারা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, সরকারি রাজস্ব পুনরুদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে সান্তাহার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবু রায়হান মণ্ডল বলেন, “পৌর জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩টি প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩১টি প্ল্যান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পৌরসভার কোনো কর্মচারী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হতে পারে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com