1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোমনি জুট স্পিনার মিল চালু ও সকল পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক জনসভা ‘চাঁদাবাজ ধরা তো দূরের কথা, তাদের পশমও ছিঁড়তে পারবেন না’: রনি সৌদি আরবে পৌঁছেছে প্রথম হজ ফ্লাইট কুরুচিপূর্ণ শব্দের ব‍্যবহার ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান এবি পার্টির আঠারবাড়ী মহাশ্মশানে শ্মশান কালী পূজা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় যুবকের দ্বিতীয় বিয়ে, গ্রামবাসীর হস্তক্ষেপে সমাধান ১৭ই এপ্রিল পীরগঞ্জে গনহত্যা দিবস অনুষ্ঠিত ছাত্রকে বলাৎকারের মামলায় মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার ডি এম আবু হানিফ স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল খাগড়াছড়িতে ছাত্র পরিষদের সদস্য নীতিশ চাকমা’র আত্মবলিদানের ৩৩ বছর আজ

‌বাংলা সিনেমার অগ্রযাত্রায় আঘাত হানছে পাইরেসি: রায়হান রাফির ‘তাণ্ডব’ মুভি অনলাইন লিক হয়ে পড়েছে বিপাকে

ইমন মিয়া
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫
  • ৮৩৮ বার পড়া হয়েছে
২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত মারপিটধর্মী চলচ্চিত্র ‘তাণ্ডব’, মুক্তির পরপরই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। তরুণ নির্মাতা রায়হান রাফি এবং জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার আদনান আদিব খান যৌথভাবে চিত্রনাট্য রচনা করেন এই সিনেমার। দেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে হামলার পটভূমিতে নির্মিত সিনেমাটিতে শাকিব খান, জয়া আহসান এবং সাবিলা নূর অভিনয় করেছেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। কিন্তু মুক্তির কিছুদিন পরই সিনেমাটি পাইরেসির কবলে পড়ে, যা বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা।
অনলাইনেই ভেসে যাচ্ছে কষ্টার্জিত পরিশ্রম সিনেমাটির নির্মাতা ও প্রযোজকরা অনেক শ্রম, মেধা এবং বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে “তাণ্ডব” নির্মাণ করেন। কিন্তু মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই সিনেমাটি অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম যেমন টেলিগ্রাম, পাইরেটেড সাইট ও ফেসবুক পেইজে ছড়িয়ে পড়ে। পাইরেসির এই ঘটনায় দর্শকরা বিনামূল্যে সিনেমাটি দেখে ফেলছে, যার ফলে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং প্রযোজক-পরিবেশকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প ইতিমধ্যে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন নির্মাতারা যখন সাহস করে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির চেষ্টা করছেন, তখন বারবার পাইরেসির থাবা তাদের উৎসাহ নষ্ট করছে। একটি সিনেমা পাইরেসির শিকার হলে তার আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও ভরসা হারাচ্ছেন প্রযোজকেরা, ব্যাহত হচ্ছে পরবর্তী বিনিয়োগ।
‘তাণ্ডব’-এর পাইরেসির ঘটনা প্রমাণ করে, যতই ভালো সিনেমা বানানো হোক না কেন, যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়—তাহলে সেই শ্রম গিয়ে ঠেকে অবমূল্যায়নের মুখে।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক রায়হান রাফি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন—
“আমরা অনেক কষ্ট করে এই সিনেমাটি বানিয়েছি। পাইরেসি আমাদের স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে। এই ধরণের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
তাঁর মতো অনেক পরিচালক, শিল্পী ও প্রযোজকই ন্যায্য সুরক্ষা ও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবী জানিয়েছেন।
প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা যেমন আছে, তেমনি বিপদও ইন্টারনেট এখন সহজলভ্য, ফলে সিনেমা পাইরেসির ঘটনাও বেড়ে গেছে। কিছু অসাধু চক্র মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা রেকর্ড করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়। আবার অনেক সময় অভ্যন্তরীণ কোনো লিক থেকেও সিনেমা বাইরে চলে যায়
‘তাণ্ডব’ কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি বাংলা চলচ্চিত্রের একটি সাহসী প্রচেষ্টা। এমন একটি সিনেমা যদি পাইরেসির শিকার হয়, তাহলে নতুন নির্মাতাদের জন্য ভবিষ্যতটা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আমাদের নিজস্ব চলচ্চিত্রশিল্পকে হারিয়ে ফেলবো।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি রক্ষা এবং বিনোদনশিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে এখনই পাইরেসির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com