দু’পাশে সারি সারি সবুজ লতা, মাঝখানে কাঁচা মাটির পথ। সেই পথজুড়ে স্তুপ করে রাখা টাটকা সবুজ শিম। চারপাশে ব্যস্ত হাতে শিম বাছাইয়ে মগ্ন কৃষকেরা।
এটি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কৃষকের পরিশ্রম, স্বপ্ন আর স্বচ্ছলতার প্রতিচ্ছবি।
শীতকালীন সবজির মধ্যে জনপ্রিয় শিম এখন ঘাটাইলে পরিণত হয়েছে লাভজনক অর্থকরী ফসলে। পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলের অনুকূল মাটি ও আবহাওয়ার কারণে এ উপজেলায় শিমের বাণিজ্যিক চাষ দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চোখে পড়ে সারি সারি শিমের বাগান, যা কয়েক বছর আগেও ছিল কল্পনার বাইরে।
চলতি মৌসুমে একেকজন কৃষক শিম বিক্রি করে লাখ টাকা আয় করছেন। অল্প খরচ, কম ঝুঁকি আর ভালো বাজারমূল্য—এই তিন সুবিধায় শিম চাষে ঝুঁকছেন অভিজ্ঞ কৃষকের পাশাপাশি শিক্ষিত বেকার যুবকরাও। এতে করে অনেক দরিদ্র কৃষক পরিবার ধীরে ধীরে স্বচ্ছলতার পথে হাঁটছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘাটাইলের শিমের চাহিদা এখন শুধু স্থানীয় হাটেই সীমাবদ্ধ নেই। পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে শিম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা সহ দেশের বড় বড় বাজারে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী কম থাকায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, চলতি মৌসুমে ঘাটাইলে প্রায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শিম চাষ হয়েছে। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারি–১, বারি–২, ইফশা–১ ও ইফশা–২ জাত চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান,“সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো গেলে এবং আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে ঘাটাইলে শিম চাষ আরও বিস্তৃত হবে। ১২ মাস চাষযোগ্য জাত উদ্ভাবন করা গেলে কৃষকরা সারা বছরই লাভবান হবেন।”
শিম শুধু অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি সবজি। শিমে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও আয়রন। নিয়মিত শিম খেলে হজমশক্তি বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে। এ কারণেও ভোক্তাদের কাছে শিমের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
শিম এখন আর শুধু একটি শীতকালীন সবজি নয়—ঘাটাইলে এটি হয়ে উঠেছে দারিদ্র্য বিমোচনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। সবুজ লতার ছায়ায় জন্ম নিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা, আর কৃষকের ঘামে ভিজে আরও মজবুত হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত।