২০০১ সালের নির্বাচনে নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপি ২ বারের সাবেক এমপি জনপ্রিয় মুখ বরকত উল্লাহ বুলুকে নমিনেশন দেয় নাই।ব্যবসায়ী আবুল হাশেমকে ঐ আসনে বিএনপি নমিনেশন দিয়েছিলো।
কোন যুক্তিতে বরকত উল্লাহ বুলুর মতো ত্যাগি নেতাকে বাদ দিয়ে আবুল হাশেমের মতো অরাজনৈতিক ব্যাক্তিকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছিলো সে-ই আর্গুমেন্টে আজ আমি যাবো না তবে অন্যতম একটা কারণ ছিলো,
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি শুধু ঢাকা আর চট্টগ্রাম বিভাগেই ১৭ জন ছাত্রনেতাকে নমিনেশন দিয়েছিলো যাদের একটা ইলেকশন করার জন্য যতটুকু টাকার দরকার সে-ই টাকাই ছিলো না।
দলের এতো বড় সিদ্ধান্তের পরও বরকত উল্লাহ বুলু সেদিন পার্টি অফিস ভাঙ্গাচুরা করেন নাই,তিনি সেদিন দলের বিরুদ্ধে কথা বলেন না-ই এবং ঐসময় ওনি ধানের শীষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও জিতে আসার সম্ভাবনা ছিলো কিন্তু দলের সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত এই নীতিতে তিনি অটল ছিলেন।
পরবর্তীতে বিএনপিও বরকত উল্লাহ বুলুর এই মহানুভবতাকে স্বাগত জানিয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় বাণিজ্য উপদেষ্টার অধিষ্ঠিত করেছেন।
২—-
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বিএনপিতে আসার অন্যতম কারণ ছিলো ২০০২ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন।
শেষ পর্যন্ত দল ঐ সাদেক হোসেন খোকাকে মনোনয়ন দিয়েছিলো।বিভিন্ন প্রলোভন থাকা সত্বেও আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিএনপি ছাড়েন নাই বরং সাদেক হোসেন খোকার নির্বাচনী প্রচারণায় পর্যন্ত ওনি অংশ নিয়েছেন।
১-১১ তে বিএনপির যেসব নেতারা আটক হয়েছেন তাদের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করা হয়েছিলো এই আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে।২০১৩ এর সে-ই অসহযোগ আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার ক্যাশিয়ার বলে এই আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে নিয়ে আওয়ামী লীগ অপপ্রচার করেছিলো।
এতো মুখরোচক প্রলোভনের পরও আব্দুল আউয়াল মিন্টু শহীদ জিয়ার আদর্শে বলীয়ান ছিলো সে-ই আব্দুল আউয়াল মিন্টুকেও বিএনপি হতাশ করেন নাই তিনি এখন বিএনপির একজন প্রভাবশালী ভাইস চেয়ারম্যান হয়তো ভবিষ্যতে স্থায়ী কমিটির সদস্য,মন্ত্রীও হতে পারেন।
৩—-
২০০১ সালের নির্বাচনে লক্ষীপুর ৩ আসনে বৃহত্তর নোয়াখালীর সেসময়কার জনপ্রিয় নেতা,২ বারের সাবেক এমপি খায়রুল এনামকে নমিনেশন দেয় নাই বিএনপি।
৩৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে নমিনেশন দিয়েছিলো বিএনপি।এতো বড় সিদ্ধান্তের পরও দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন নাই খায়রুল এনাম,ওনিওবিদ্রোহী প্রার্থী হলে জিতে আসার সম্ভাবনা ছিলো।
সেদিন খায়রুল এনাম কোনো ষড়যন্ত্র করেন নাই বরং ঐ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিলেন।
জিয়া পরিবার তথা বিএনপি জানে কাকে কীভাবে মূল্যায়ন করতে হয়,কাকে কোন জায়গায় কাজে লাগাতে হয় এটা সম্ভবত বাংলাদেশে বিএনপির চেয়ে বেশি কেউ জানে না।
সামনে আসছে আবার নির্বাচন।অনেকে দেখছি এখন সতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন।বিএনপির চেয়েও বড়ো বিএনপি হয়ে গেছেন,হাঁকডাকও খুব জোরালো ভাবে দিচ্ছেন।
সতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করা আপনার ব্যাক্তিগত স্বাধীনতা কিন্তু বিএনপির চেয়ে বড়ো বিএনপি হতে যাইয়েন না;বি চৌধুরী,শমসের মুবিন চৌধুরী,তৈমুর আলম খন্দকারও বিএনপির চেয়ে বড়ো বিএনপি হতে গিয়েছিলো তারপর পরবর্তী পরিণতি সবারই জানা…