1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ছাত্রদল নেত্রী মানছুরা নাহিদের জোড়া আঘাত, পাওয়ার প্লেতে নিউজিল্যান্ডকে চাপে রেখেছে বাংলাদেশ মঙ্গলবার এসএসসি পরীক্ষা শুরু, পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে ১৪টি নির্দেশনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অ*ভি*যা*নে ‌দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রে’ফ’তা’র কেন্দুয়ায় ব্রি ধান ৮৮ বীজে মিশ্রণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক: প্রতারণার অভিযোগ বীজ ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে শতবর্ষের খাল দখলে বন্ধ পানিপ্রবাহ, জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে ঈশ্বরগঞ্জের নাগরিকবৃন্দ কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজে একাডেমিক ভবন ও ছাত্রাবাসের উদ্বোধন তারাগঞ্জে জ্বালানি সংকটে জনজীবন অতিষ্ঠ; ফুয়েল কার্ডে মিলছে না কাঙ্খিত সেবা মহাখালীতে রাজউকের নকশা তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবন: জননিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিমান বাহিনীর কাছে ছিল তথ্য, ছিল অভিজ্ঞতা—তবুও কেন প্রতিকার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৯৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে সামরিক বাহিনির প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু ২০২৫ সালের ২১ জুলাই ঘটে যাওয়া সর্বশেষ এফ-৭ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ফের নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

‎সেদিন চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি এলাকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। পাইলট অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। বিমানটি ফ্লাইটের কিছুক্ষণ পরেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তদন্ত করছে। কিন্তু তদন্ত চলছে—এই উত্তরটা এই মুহূর্তে আর যথেষ্ট নয়।

‎এর আগে, একই মডেলের এফ-৭ বিমান ২০১৮, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালেও বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রতিবারই একইরকম বিবৃতি এসেছে—তদন্ত চলছে। কিন্তু সেই তদন্তের কোনো প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে—যেহেতু পূর্বেও একই ধরনের বিমান ক্র্যাশ করেছে, তাহলে কেনো সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যথাযথ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

‎বিমান বাহিনীর কাছে অবশ্যই প্রতিটি দুর্ঘটনার পরিপূর্ণ তথ্য, ফ্লাইট রেকর্ড, এবং ব্ল্যাকবক্স বিশ্লেষণের রিপোর্ট থাকার কথা। তাহলে এই তথ্য ও অভিজ্ঞতা থেকেও প্রতিকারহীনতা কেন?

‎এফ-৭ বিমান চীনা প্রযুক্তির একটি পুরনো ডিজাইনের জঙ্গি বিমান, যা মূলত সোভিয়েত মিগ-২১-এর ভিত্তিতে তৈরি। এটি ১৯৭০-৮০ দশকে ডিজাইন করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে।

‎বলা হয়ে থাকে, এসব বিমানের যন্ত্রাংশ পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনকি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক দেশ ইতোমধ্যে এ ধরনের বিমানগুলো বাতিল করেছে কিংবা সীমিত করেছে এর ব্যবহার। তবুও বাংলাদেশে এগুলো এখনও সক্রিয় প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এ সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক?

‎২১ জুলাইয়ের দুর্ঘটনার দিন দেশের রাজনীতিও উত্তপ্ত ছিল। বিএনপি এবং সরকারবিরোধী জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং হরতালকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে বারবার সামরিক শক্তি প্রদর্শন কিংবা যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন অনেক সময় প্রতীকী শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখা হয়।

‎তবে যখন এই ধরনের শক্তি প্রদর্শন জীবনহানির সম্ভাবনা তৈরি করে, তখন প্রশ্ন ওঠে—এটা কি কেবল লোক দেখানো? যদি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছাতেই এই বিমান ব্যবহার হয়ে থাকে, তবে সেটা কতটা গ্রহণযোগ্য?

‎প্রতিরক্ষা একটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিন্তু প্রতিবার এক ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার পরও একই প্রতিক্রিয়া—‘তদন্ত চলছে’—এটি জনগণের প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। বিমান বাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই দুর্ঘটনাগুলোকে শুধুই দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত হবে না।

‎এখন সময় এসেছে—দায়িত্ব গ্রহণের, স্বচ্ছতা দেখানোর এবং মানুষের জান-মালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com