দিনাজপুরের বিরামপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিল এবং বিরামপুর উপজেলার সকল সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) সন্ধ্যা ৮টায় বিরামপুর পৌর শহরের ধানহাটি মোড় এলাকায় অবস্থিত বিরামপুর ফুড ওয়েতে এ দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিরামপুর উপজেলার সকল সাংবাদিকবৃন্দ, দিনাজপুর-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিরামপুর প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সকল সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দিনাজপুর-৬ আসন (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপোষহীন দেশনেত্রী, যিনি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করেন এবং তার আদর্শ অনুসরণে দেশ গঠনের আহ্বান জানান।
তিনি বিরামপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। এ সময় তিনি রাস্তা-ঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা বিস্তার, পরিবেশ দূষণ রোধ, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি রেলওয়ে স্টেশন ও ট্রেন যোগাযোগের উন্নয়ন, হিলি স্থলবন্দরকেন্দ্রিক পণ্য আমদানি-রপ্তানির সম্ভাবনা এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সহযোগিতা, গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমেই সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। বিএনপি সবসময় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং গণতান্ত্রিক ধারায় দেশ পরিচালনায় বিশ্বাসী।
বক্তব্যে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি নারী অধিকার ও নারী শিক্ষায় বিএনপির অবদান, নার্সিং খাতের উন্নয়ন এবং বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের গুরুত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
এ সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর তার জানাজায় দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের এই ভালোবাসা তার রাজনৈতিক জীবনের এক অনন্য স্বীকৃতি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মায়ের শোক কাটিয়ে জনগণের কথা চিন্তা করে পুনরায় দৃঢ়ভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বে দাঁড়িয়ে গেছেন, যা জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
সবশেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।