বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন স্পটে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রিছাং ঝরনা, সাজেক ভ্যালিসহ জেলার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পর্যটকরা দল বেঁধে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তরুণ-তরুণীদের আগ্রহ ছিল বেশ লক্ষণীয়। প্রেমিক-প্রেমিকারা হাতে লাল গোলাপ নিয়ে ছবি তুলেছেন, উপহার বিনিময় করেছেন, কেউ আবার প্রকৃতির মাঝে ভালোবাসার দিনটি উদযাপন করেছেন।
খাগড়াছড়ির এক স্থানীয় পর্যটক বলেন, “বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রিয়জনদের নিয়ে পার্কে ঘুরতে এসেছি। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি, বেশ ভালো লাগছে।”
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক ইসমাঈল হোসেন জানান, ““শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় বন্ধুরা মিলে খাগড়াছড়িতে এসেছি। অনেকদিন ধরেই আসার ইচ্ছে ছিল, আজ সেটি পূরণ হলো। এখানকার পরিবেশ মনোমুগ্ধকর।”
চট্টগ্রাম থেকে আসা এক দম্পতি বলেন, “ভালোবাসা দিবসে আমরা প্রতিবছরই কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাই। এবার খাগড়াছড়ি এসেছি, ছেলে-মেয়েরাও খুব উপভোগ করছে। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ।”
খাগড়াছড়ির রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দোকান মালিকদের মতে, তরুণ ক্রেতাদের চাহিদা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। খাবারের অর্ডার দিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেককে।
এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জানান, “বিশেষ দিন হওয়ায় তরুণদের আনাগোনা ছিল বেশি। আমাদের কর্মীদের বাড়তি চাপ সামলাতে অতিরিক্ত লোক নিয়োগ দিতে হয়েছে।”
ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ির সব আবাসিক হোটেল ও মোটেল আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই দিনে এমন উপচে পড়া ভিড় প্রতিবছরই দেখা যায়।
একজন হোটেল মালিক বলেন, “পর্যটকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছি। যুগলদের জন্য রোমান্টিক পরিবেশ সাজানো হয়েছে, যাতে তারা উপভোগ করতে পারেন।”
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি রেখেছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা পর্যটন শিল্পের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বাড়বে এবং পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে।
পর্যটকদের আনন্দঘন মুহূর্তগুলোই বলে দেয়, প্রকৃতির মাঝে ভালোবাসার আনন্দ উদযাপন সত্যিই অনন্য। ভালোবাসা দিবসে খাগড়াছড়ির সৌন্দর্য ও প্রাণবন্ত উচ্ছ্বাস মিলে এক অনন্য আবহ তৈরি করেছে, যা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন পর্যটকরা।