মাগুরা সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরে এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও সতীনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মোঃ শিমুল বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল মাগুরা সদর থানায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর আগে লস্কাপুর গ্রামের মোঃ ছরোয়ার শেখের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে একই উপজেলার বড়খড়ি গ্রামের নাছিরুল ইসলামের বিয়ে হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই নাছিরুল ইসলাম অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন এবং তার প্রথম স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি সাবিনা ইয়াসমিনের অনুমতি ছাড়াই ২নং আসামী শাহিনা বেগমকে বিয়ে করেন।
বাদী জানান, গত ০৬ এপ্রিল (সোমবার) বিকেলে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ১নং আসামী নাছিরুল ইসলাম রশি দিয়ে স্ত্রীর গলা পেঁচিয়ে ধরেন এবং ২নং আসামী শাহিনা বেগম তার পেটের ওপর দাঁড়িয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। এসময় অন্য আসামীরা ভুক্তভোগীকে কিল-ঘুষি মারে এবং মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে।
উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা
ভুক্তভোগী সাবিনা ইয়াসমিনের ছোট ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম (১১) ঘটনাটি দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে (ICU) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার আসামীগণ
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন:
মোঃ নাছিরুল ইসলাম (স্বামী),মোছাঃ শাহিনা বেগম (সতীন),মোঃ রুহুল আমিন,মোছাঃ সাবিনা খাতুন
ও মোঃ আকিদুল ইসলাম।
মেয়ের পিতা মোঃ ছরোয়ার শেখ বলেন আসামীরা আমার মেয়েকে প্রায় মেরেয় ফেলেছি।আল্লাহর রহমতপ সে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরেছে।আমি আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।
পুলিশের ভাষ্য
মাগুরা সদর থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন। পুলিশ জানায়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।