বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য মরিয়ম বেগম ইতি বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের আড়ালে বিদেশে নারী পাচারের মতো ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে আর এই চক্রের সঙ্গী হিসেবে ছিলেন বিকেএসপি তায়কোয়ানডো বিভাগের স্থায়ী কোচ মোঃ রাশিদুল হাসান। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ও নথিপত্র অনুযায়ী, ফেডারেশনের প্রভাবশালী এই নেত্রীর প্রত্যক্ষ ছত্রছায়া, মদদ এবং সুপরিকল্পিত নীতিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা ছাড়া কোচ রাশিদুলের পক্ষে বিকেএসপি প্রশাসন ও ফেডারেশনকে বছরের পর বছর বিভ্রান্ত করা সম্ভব হতো না। অভিযোগ রয়েছে, মরিয়ম বেগম ইতি নিজের দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পর্দার আড়াল থেকে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত অক্টোবর ২০২৪-এ দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত “The Global Think Tank Summit”-এ তায়কোয়ানডো সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে তাজনূর আক্তার (পাসপোর্ট নং- A00177436) এবং ফারজানা জান্নাত রুমা (পাসপোর্ট নং- A02030768) নামের দুই নারীকে সুপরিকল্পিতভাবে সাথে নিয়ে যাওয়া হয়। নথিপত্র অনুযায়ী উঠেছে যে, উক্ত সফরে কোচ রাশিদুল হাসানের সাথে মাস্টারমাইন্ড মরিয়ম বেগম ইতি নিজেও সশরীরে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছিলেন। মূলত মরিয়ম বেগম ইতি ফেডারেশনের সর্বোচ্চ প্রভাব খাটিয়ে নিজেই এই সমস্ত জাল কাগজপত্রের ব্যবস্থা করে দেন এবং ওই দুই নারীর কাছ থেকে তারা যৌথভাবে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন, যা তাদের এই যৌথ সফরের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উক্ত অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ওই দুই নারী বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন না করে বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। পরবর্তীতে কোচ মোঃ রাশিদুল হাসান নিজের চাকরি বাঁচাতে নিজেই কোরিয়ার আন্তর্জাতিক আয়োজক কমিটির কাছে লিখিত চিঠিতে উক্ত নারীদের অবৈধ “ওভারস্টে” হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হন, যা তায়কোয়ানডো প্রশিক্ষণের আড়ালে মানবপাচারের একটি অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ন্যাক্কারজনক কেলেঙ্কারির কারণে কোরিয়ান দূতাবাস বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ইউনিয়নকে ব্ল্যাকলিস্ট করেছে বলে জানা গেছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করেছে।
অভিযুক্ত মরিয়ম বেগম ইতি ও কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের সাথে বারংবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিশ্বস্ত মহলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ভয়াবহ জালিয়াতি ও মানবপাচারের ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত মরিয়ম বেগম ইতি বিভিন্ন মহলে তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে চলছেন। এমনকি তিনি প্রকাশ্যেই দাবি করছেন যে, ‘‘ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তার খুব কাছের মানুষ, তিনি যা বলবেন প্রতিমন্ত্রী তার কথা ফেলে দেবেন না।’’ দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন অভিযুক্তের এমন মন্তব্য এবং রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের নাম ব্যবহার করে পার পাওয়ার অপচেষ্টা পুরো ক্রীড়াঙ্গনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।