রংপুরের মিঠাপুকুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত অ্যালকোহল (মদ) পানে অসুস্থ হয়ে দুলা মিয়া (৪৫) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে বিষাক্ত মদ পানের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫ ।
মৃত দুলা মিয়া মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের খোর্দ কোমরপুর কঞ্চিবাড়ি গ্রামের আকবর আলীর ছেলে।
বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) মাহিদুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাতে উপজেলার বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এদের মধ্যে কাফ্রিখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের ছাত্তার মিয়া (৬০) ওই রাতেই নিজ বাড়িতে মারা যান। এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার হাসপাতালে মারা যান বুজরুক ঝালাই গ্রামের হুজুর আলী (৪৫) ও সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার সাজু মিয়া (৫৫)।
মঙ্গলবার সকালে মারা যান বুজরুক ঝালাই গ্রামের পাকারমাথা এলাকার এরশাদ আলী (৪০)। আর সর্বশেষ বুধবার দুপুরে মারা যান দুলা মিয়া।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এরশাদ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলমান। আইনি প্রক্রিয়া মেনে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর জানান, বিষাক্ত মদপানে ৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করেছে। তদন্ত চলমান। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে এই ঘটনার পর থেকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সচেতন করতে এলাকায় লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাবধান করা হচ্ছে।
এদিকে, বিষাক্ত মদের এমন ভয়াবহ থাবায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সাথে অবৈধ মদ বিক্রেতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।