1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৬৫ মাদারীপুরে বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন করলেন এমপি জাহান্দার জীবননগরে ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা প্রবাসী রাজনে বিরুদ্ধে মামলা খুলনা বিএনএসবি হাসপাতাল ( চক্ষু হাসপাতাল) ট্রাস্টি বোর্ডের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন গৌরনদীতে ‘দারসুল কুরআন সুন্নাহ্ ফাউন্ডেশন’ আত্মপ্রকাশ: দ্বীনের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছানোর প্রত্যয় নেত্রকোনায় উৎসব মুখর পরিবেশে মেছুয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সোনালী ব্যাংক জিয়ানগর শাখা ম্যানেজার মশিউর রহমান গাজীর কৃতিত্ব অর্জন, সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান টেকনাফে বিশেষ অভিযানে ২২ আসামী গ্রেফতার জামালপুরে জামিন নিতে এসে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ আ’লীগের ১০ নেতাকর্মী কারাগারে কুমিল্লার হোমনায় গৃহবধূকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল জনতা: ধর্ষণকারিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

রাইড শেয়ারিংয়ের আড়ালে ইয়াবার ‘হোম ডেলিভারি’: নেপথ্যে বরিশাইল্লা মানিক

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে অলিগলি—সবখানেই এখন বিচরণ তার। কখনও সিএনজি অটোরিকশার চালক, আবার কখনও মোটরসাইকেলে ‘পাঠাও’ রাইডারের বেশ। কিন্তু এই চালক বা রাইডার পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর মাদক কারবারি। তার নাম মানিক, অপরাধ জগতে যিনি ‘বরিশাইল্লা মানিক’ নামেই পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে রাইড শেয়ারিং সেবাকে সে ব্যবহার করছে ইয়াবা ‘হোম ডেলিভারি’র হাতিয়ার হিসেবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকের মাদক ব্যবসার মূল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত গুলশান, বনানী, মহাখালী, দক্ষিণখান ও নাখালপাড়া এলাকায়। নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার নাম করে সে আসলে ইয়াবার প্যাকেট পৌঁছে দেয় নির্দিষ্ট গ্রাহকের হাতে। সম্প্রতি মাদকের পথ ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসা এক যুবক মানিকের এই অভিনব কৌশলের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন।
কৌশলী কারবার ও মামলার পাহাড়:
মানিকের বিরুদ্ধে বাড্ডা ও বনানী থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বারবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে সে পুনরায় পুরনো পেশায় লিপ্ত হয়। একজন ভুক্তভোগী জানান, মানিক মূলত দিনের বেশিরভাগ সময় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ চালু রাখে বা অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় থাকে যেন কেউ তাকে সন্দেহ না করে। তার ফোনের কললিস্টে থাকা সংকেত অনুযায়ী সে নির্দিষ্ট পয়েন্টে ইয়াবা সরবরাহ করে।
মাদক নির্মূল নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীরা এই প্রবণতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। মাদক আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট রাইহানুল ইসলাম বলেন,
“পরিবহন খাতের আড়ালে মাদক ব্যবসা নতুন কোনো বিষয় নয়, তবে রাইড শেয়ারিংয়ের মতো জনপ্রিয় সেবাগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাটা ভয়াবহ। এতে করে সাধারণ চালকরাও সন্দেহের তালিকায় চলে আসছেন। এই ধরনের ‘হোম ডেলিভারি’ বন্ধ করতে হলে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কর্তৃপক্ষকেও চালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ে আরও কঠোর হতে হবে।”
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। সিএনজি বা পাঠাও রাইডারের বেশে ইয়াবা পাচারের তথ্য আমাদের কাছেও আসছে। বরিশাইল্লা মানিকসহ এ ধরনের চক্রের সদস্যদের ধরতে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথ ও সন্দেহভাজন পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।”
যুবসমাজ ও সামাজিক ঝুঁকি:
ঘরে বসে অনায়াসেই মাদক হাতে পাওয়ায় ধ্বংসের পথে পা বাড়াচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ। বনানী ও দক্ষিণখান এলাকার সচেতন অভিভাবকরা জানান, এই ধরনের ভ্রাম্যমাণ মাদক বিক্রেতাদের কারণে পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং ও অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। মানিকের মতো মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com