1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেই বিচারপতি মান্নানকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দিলেন প্রধান বিচারপতি হরমুজে সাবমেরিন ইন্টারনেট ক্যাবল নিয়ে সতর্ক বার্তা ইরানের মার্কিন নৌবাহিনীর সচিব বরখাস্ত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন ড. সাইমুম পারভেজ নলডাঙ্গায় নশরৎপুরে অগ্নিকাণ্ডে ভূমিভূত বসতবাড়ি দিশেহারা কৃষক পরিবার লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অচল জেনারেটরে চরম ভোগান্তি—পরিদর্শনে প্রতিনিধি দল পটুয়াখালীতে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ করতে জেলা প্রশান এর মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে প্রেমের টানে ধর্মান্তর: চাঁদপুরে চাঞ্চল্য নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে ৪ খুনের রহস্য উদঘাটন: সম্পত্তির লোভে ভাগনে-ভগ্নিপতির নৃশংস পরিকল্পনায় খুন নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে ৪ খুনের রহস্য উদঘাটন: সম্পত্তির লোভে ভাগনে-ভগ্নিপতির নৃশংস পরিকল্পনায় খুন

রুস্তম মেম্বার ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে মুক্ত,পুলিশের দাবি উদ্ধার

বিএ বাহাদুর
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

রামু উপজেলার ‘আতঙ্কের রুট’ হিসেবে পরিচিত ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ক থেকে অপহৃত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য রুস্তম আলী (৪১) অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে অপহরণের শিকার হওয়ার পর একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ফিরে আসেন। তবে তাঁর মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।স্বজনদের দাবি, ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। আর পুলিশের বক্তব্য, অভিযান চালিয়েই তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছয়টার দিকে ঈদগাঁও থেকে নিজ বাড়ি ঈদগড়ে যাওয়ার পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় ১০–১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল রুস্তম আলীর পথরোধ করে। পরে অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে পাহাড়ি গভীর বনে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের পরপরই পরিবারের কাছে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একইসঙ্গে, টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

রুস্তম আলীর চাচা করিম মৌলভী দাবি করেন, দিনভর দেনদরবারের পর অপহরণকারীরা ৩০ লাখ টাকা থেকে নেমে ৮ লাখ টাকায় রাজি হয়। তার ভাষ্য, “রাতে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের স্বপ্নতরী এলাকার পাহাড়ি বনের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে আমি নিজেই ৮ লাখ টাকা নগদ দিই। এরপর তারা আমার ভাতিজাকে ছেড়ে দেয়।”

স্থানীয় সংবাদকর্মী আবুল কাশেমও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মুক্তিপণের টাকা বুঝে নেওয়ার পর অপহরণকারীরা রুস্তম আলীকে ছেড়ে দেয়। পরে তিনি ঈদগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তাঁকে উদ্ধারে দিনভর অভিযান চালানো হয়েছে। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার দাবি, অপহরণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করা হয়। দীর্ঘ সময়ের অভিযানের একপর্যায়ে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “মুক্তিপণের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খুর্শেদ আলম জানান, পাহাড়ি এলাকায় টানা অভিযানের ধারাবাহিকতায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রুস্তম আলী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি চেষ্টা, চুরি, মারামারি ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

অপহরণের পেছনে পুরোনো বিরোধ, নাকি অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব- এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি মনিরুল।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করা গেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় অপহরণচক্র নির্মূলে সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়াছ উদ্দিন দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত। তার ভাষ্য, “দিনের আলোয় একজন জনপ্রতিনিধি অপহরণের ঘটনায় সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।”

ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের কণ্ঠে হতাশা। তার ভাষ্য, “এই সড়কে বহুদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। একজন ইউপি সদস্য অপহরণের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।”এলকাবাসী মানুষের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে।২৩/০৪/২০২৬ইং।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com