লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রোগী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে তারা ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সেবার অভাবের পাশাপাশি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অনেক সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায় না। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও গুরুতর রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হলেও অনেকে বাধ্য হয়ে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন অথবা বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ভেতরে সিরিঞ্জ, টেপ, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর প্রায়ই সংকট দেখা দেয়। ফলে রোগীদের এসব সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সরকারি বরাদ্দকৃত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী আসলে কোথায় যাচ্ছে?
পরিবেশগত দিক থেকেও হাসপাতালের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। ওয়ার্ড, বারান্দা ও হাসপাতালের আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও নোংরা অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি হলে নিজের উদ্যোগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামনাশীষ মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেন এবং বলেন, “উপর থেকে যা আসে, তাই এখানে মানুষের জন্য বরাদ্দ করা হয়।” তার এমন বক্তব্য ও আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—যদি তিনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করেন, তবে কেন তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা হয়েছে এবং কেনই বা তিনি সরকারি বেতন ভোগ করছেন?
এদিকে স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগীরা রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলমান অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে হাসপাতালটিকে সাধারণ মানুষের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।