গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ওসমান হাদী হলের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবার সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে হলটিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও খাবার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তারা জানান, শহীদ ওসমান হাদী হলকে অস্থায়ী ছাত্রাবাস হিসেবে চালু করা হলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ৭০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা বাইরের মেস বা ভাড়া বাসার ব্যয়ের সঙ্গে তুলনীয়। অথচ সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে হলটি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রত্যাশিত মান পূরণ করতে পারছে না।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে মেসে থাকলে গ্যাস বিলসহ মোট খাওয়া ও থাকা বাবদ মাসিক ব্যয় ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হলেও হলে থেকে তাদের খাবার খরচই দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা, তাও খালা বিল ছাড়া। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরুতে রান্নার বাবুর্চির পারিশ্রমিক বহনের আশ্বাস দিলেও বর্তমানে সেই দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
হলের শিক্ষার্থীরা আরও জানান, খাবারের বিল সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাবুর্চি রান্না বন্ধ করে চলে যাওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত থাকলেও হল প্রভোস্ট কিংবা সংশ্লিষ্ট হল টিউটররা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে আসেননি। পরে রাতে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে বসলে তখন একজন হল টিউটর এসে তাদের কথা শোনেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অবকাঠামো, ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থায়ী ক্যাম্পাসের ডিপিপি অনুমোদন ও ছাড়পত্র প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের হতাশ করছে। বারবার আন্দোলনের মাধ্যমে ডিপিপি প্রক্রিয়া এগোলেও বাস্তব সুফল পাচ্ছেন না তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল ব্যবস্থাপনাকে এক ধরনের আয়ের উৎসে পরিণত করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হলেও সেবার মান নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমছে, নাকি আরও বাড়ছে।
তারা দ্রুত খাবার ও আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় আন্দোলনসহ কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন বলেও শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দেন।