গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক সেবন করে ফুটবল মাঠে গিয়ে অস্বাভাবিক আচার-আচরণে বাধা দেয়ায় জয় নামের এক স্কুল ছাত্রকে হুমকির দু’ঘন্টা পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১০ টার দিকে শ্রীপুর পৌরভার লোহাগাছ গ্রামের ফালু মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে রাত ১২ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল। নিহত স্কুলছাত্র মো. জয় হাসান (১৫) শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোহাগাছ গ্রামের মো. বোরহান উদ্দিনের ছেলে। সে শ্রীপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল । অভিযুক্তরা হলো, ছুরিকাঘাতকারী মোজাম্মেল (২৫) শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে।মোজাম্মেলের ভাই আজিজুল ও মোজাম্মেলের পিতা আবুবকর সিদ্দিক । প্রত্যক্ষদর্শী নিহত জয়ের বন্ধু সংগ্রাম বলেন, বিকাল চারটার দিকে আমরা ১৫ থেকে ১৭ জন মিলে সরকার মাঠে ফুটবল খেলছিলাম। এসময় মাদকাসক্ত মোজাম্মেল হক একটি রাম দা হাতে নিয়ে এসে মুদি দোকানী হাবিবুরের ছেলে জুনায়েদকে হুমকি দেয়। জয়ের বন্ধু জুনায়েদকে হুমকি দিলে জয় প্রতিবাদ করে। খেলা শেষে আমরা সবাই মাঠের পাশেই বসে ছিলাম । এসময় হঠাৎ করে অভিযুক্ত মোজাম্মেল পূনরায় মাদক সেবন করে অস্বাভাবিক আচার-আচরণ করে জুনায়েদসহ জয়কে কুপিয়ে তিনভাগ করে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরপর আমরা সবাই পাশের সরকার মার্কেটে গেলে মোজাম্মেল এসে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। এসময় আমরা ৬ জন ছিলাম। হঠাৎ করে মোজাম্মেল হক তার ভাইকে ডাক দিলে তার বড়ভাই আজিজুল একটি ধারালো ছুরি এনে মোজাম্মেলের হাতে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে জয়কে সজোরে একটি লাথি মেরে ফেলে ধারালো ছুরি দিয়ে পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মোকাররম বলেন, ফুটবল খেলার দ্বন্দ্বে রাত ১০ টার দিকে স্থানীয় লোহাগাছ সরকার মার্কেট এলাকায় নিহত স্কুলছাত্র জয়ের সঙ্গে স্থানীয় সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মোজাম্মেল হকের সাথে জয়ের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মোজাম্মেল উত্তেজিত হয়ে দৌড়ে বাড়ি থেকে ভাইয়ের মাধ্যমে ধারালো ছুরি এনে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্বজন ও স্থানীয়রা জয়কে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরবর্তীতে আশংকাজনক অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২ টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত জয়ের বাবা বোরহান উদ্দিন বলেন, কয়েকজন অপরাধী মাদকাসক্ত যুবক আমার ছেলেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে করে তবুও মৃত্যু নিশ্চিত হয়নি। আমার ছেলেকে অন্ডকোষে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। আমার তরী ডুবিয়ে দিয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।