1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যর্থতায় দেশ অনেকটা পিছিয়ে আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আইনের শাসনই শেষ কথা নয়, অপরাধ দমনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী কাল থেকে শুরু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নেবে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৬৫ মাদারীপুরে বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন করলেন এমপি জাহান্দার জীবননগরে ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা প্রবাসী রাজনে বিরুদ্ধে মামলা খুলনা বিএনএসবি হাসপাতাল ( চক্ষু হাসপাতাল) ট্রাস্টি বোর্ডের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন গৌরনদীতে ‘দারসুল কুরআন সুন্নাহ্ ফাউন্ডেশন’ আত্মপ্রকাশ: দ্বীনের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছানোর প্রত্যয় নেত্রকোনায় উৎসব মুখর পরিবেশে মেছুয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন

সরকারি চাকরির বয়সসীমা: বেকারত্বের অভিশাপ ও সমাধানের আহ্বান

হাফিজ উল্লাহ চৌধুরী আলিম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৬৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজের মধ্যে আজ হতাশা ও ক্ষোভ এক চরম বাস্তবতা। এর পেছনে মূল কারণ, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু সরকারি চাকরির জন্য নির্ধারিত বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে তাদের মেধার অপচয় হচ্ছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বর্তমানে ৩২ বছর, যা অসংখ্য প্রতিভাবান যুবক-যুবতীর জন্য এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেশনজট, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে অনেক সময়ই এই মূল্যবান সময়টুকু তারা হারিয়ে ফেলেন। এই হতাশা শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ক্রটি ও দুর্নীতি :
সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই প্রশ্ন উঠছে। প্রথাগতভাবে, শুধু কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে (যেমন: গণিত, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান) দক্ষতা যাচাই করা হয়, যা একজন প্রার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা মূল্যায়নে যথেষ্ট নয়। এর ফলে অনেক প্রার্থীর ব্যবহারিক জ্ঞান, বিশেষায়িত দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা প্রায়শই উপেক্ষিত হয়। এছাড়াও, দুর্নীতি, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি এবং কোটা পদ্ধতির অপব্যবহারের অভিযোগ প্রায়শই শোনা যায়। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড যোগ্য প্রার্থীদের হতাশ করে এবং তাদের কর্মজীবনের স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। জনগণের মধ্যে এমন ধারণা প্রবল যে, সরকারি চাকরি এখন মেধার চেয়েও প্রভাবশালী সংযোগের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে।
সমাধানের প্রস্তাব: নতুন আইন ও গণমন্ত্রণালয়
এই গুরুতর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একটি নতুন আইন প্রণয়ন করে যদি ঘোষণা করা হয় যে, যেকোনো বয়সের যোগ্য ব্যক্তি সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারবে, তাহলে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। উন্নত বিশ্বে অনেক দেশেই চাকরির বাজারে বয়সসীমা তুলনামূলকভাবে কম কঠোর এবং যোগ্যতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, দেশের জনগণের কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক মঙ্গলের জন্য একটি পৃথক গণমন্ত্রণালয় গঠন করা সময়ের দাবি। আমরা যদি জনগণের ভালোর কথা ভেবে শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারি, তাহলে কেন গণমন্ত্রণালয় গঠন করে নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে পারব না?
* কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি: দেশের সব শিক্ষিত বেকারের একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা, যা তাদের দক্ষতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।
* বেকার ভাতা চালু: বেকারদের জন্য সাময়িক সময়ের জন্য বেকার ভাতা চালু করা যেতে পারে, যা তাদের হতাশা কিছুটা কমাবে এবং নতুন করে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ দেবে।
* উদ্যোক্তা উন্নয়ন: তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করে স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
* স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া: নিয়োগ প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা যেতে পারে। প্রযুক্তির সাহায্যে পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা সম্ভব।
বৈষম্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকগণ যদি ৮৫ বছর বয়সেও দেশের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে পারেন, তবে যেকোনো বয়সের মানুষ কেন চাকরির সুযোগ পাবে না? বর্তমানে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু সংখ্যক মানুষ কর্মের সুযোগ পেলেও, বেশিরভাগই বঞ্চিত হচ্ছে। এই বৈষম্য দূর করা এখন জনমনে প্রায়শই শোনা যায়।
আশার আলো ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
আমাদের দেশের অনেক মানুষ আছে যারা বয়সের কারণে কর্মহীন হয়ে হতাশার জালে আটকে পড়েছেন। তাই সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে যেকোনো বয়সের ব্যক্তিরা যাতে চাকরি করতে পারেন, সেই বিষয়ে দ্রুত আইন করা যেতে পারে। দেখা যায়, আমাদের মাঝে দিন দিন স্ট্রোকের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো দুশ্চিন্তা এবং জীবনের প্রতি বাঁচার অনীহা। আমাদের উচিত এই শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর দিকে দৃষ্টি দিয়ে দ্রুত আইন করে পদক্ষেপ নেওয়া। তা না হলে তাদের জন্য বেকার ভাতার ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে। যদি বর্তমান সরকার গণঅধিকার বাস্তবায়ন করে, তবে সেটির বৃহত্তর লাভ হবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের। আসুন, সম্মিলিতভাবে আমরা আওয়াজ তুলি: “আর বেকার নয়, এবার হবো স্বাবলম্বী।” তবেই আসবে শান্তি আর মুক্তি।
দেশের যে সকল প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ আছে, সেগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা সম্ভব। পরিকল্পিতভাবে আরও বেশি শিল্প ও কল-কারখানা স্থাপন করা হলে বেকারত্ব কমবে। দেশ আর পিছিয়ে থাকবে না, সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। জনগণের পক্ষ থেকে এই প্রত্যাশা করি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com