সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পর ২০২৩ সালে মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্ত হন মানিক পশারী

 
‎
‎মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় গেজেটভুক্ত হন।
‎
‎২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তিনি সাক্ষ্য দেন। তাঁর সাক্ষ্য দেওয়ার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে পুরস্কারস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত করে—এমন অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও যাচাই-বাছাইয়ের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
‎
‎এদিকে, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করেছেন পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর ভাই ও বোনও এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
‎
‎মানিক পশারীর ছোট ভাই চাঁন মিয়া পশারী বলেন, তাঁকে ও তাঁর ভাই মানিক পশারীকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। তিনি নিজে সেই প্রলোভনে পা না দিলেও তাঁর বড় ভাই মানিক পশারী অর্থের লোভে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‎
‎সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চাঁন মিয়া পশারী আরও বলেন, ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছিলেন না। সে সময় সাঈদী অনেক ছোট ছিলেন। রাজাকার ছিলেন রামেশ মোল্লা, মোসলেম মাওলানা ও সেকেন্দার শিকদার।’
‎
‎চাঁন মিয়া পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আমার নাম আমার ভাই দেয়নি। কেন নাম দেয়নি, তা সে ভালো বলতে পারবে। আমরা পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাইও গুলি খেয়েছে। আমার ভাই যাদের যাদের ভালো লেগেছে, তাদের তাদের মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম দিয়েছে। আমার নাম দেয়নি, কারণ আমি সাঈদীর পক্ষে ভালো কথা বলেছি। আমার ভাই আমাকে দুই টাকা দিয়েও কখনো সাহায্য করেনি। আমি সাঈদীর গুণগান করেছি, এ কারণেই।’
‎
‎মানিক পশারীর বোন হাসিনা বেগমের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁর ভাই টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার ভাইকে অনেক অনেক টাকা দিয়েছে। টাকার বন্যা বয়ে গেছে।’
‎
‎মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী যুদ্ধাপরাধী ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমি কিছু জানি না, আমার ভাই জানে।’
‎
‎অন্যদিকে, প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী। তবে তাঁর ভাই কেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
‎
‎পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে সাংবাদিকেরা হেনা পশারীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাঁর ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরে এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের কাছে কিছু জানতেও চাননি তাঁরা।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top